স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রোববার ছয় হাজার ১৮৬ বন্দীকে মুক্তি দিচ্ছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। তাদের মধ্যে ৫২ জন বিদেশি নাগরিক।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমআরটিভির বরাতে এসব তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তবে মুক্তিপ্রাপ্ত বিদেশিদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবরে বলা হয়, মিয়ানমারে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় নির্বাচন শুরু হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তিন ধাপে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২৫ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপের ভোট শেষে ফল গণনা করা হবে। ২০২০ সালের পর এটিই মিয়ানমারের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
নির্বাচনি আমাজের মধ্যে ৪ জানুয়ারি, রোববার মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবস। ভোটকে আরও উৎসবমুখর করতে ছয় হাজারের বেশি বন্দীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে দেশটির সামরিক সরকার।
এমআরটিভি জানায়, এই সাধারণ ক্ষমার আওতায় ৫২ জন বিদেশিও রয়েছেন। জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জনগণের মানসিক শান্তির বিষয়টি বিবেচনায় এ মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া জান্তা সরকার সারা দেশে বন্দীদের সাজা এক-ষষ্ঠাংশ কমিয়েছে। তবে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি এবং অস্ত্র বা মাদক-সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধে দণ্ডিতদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য নয়।
রাজনৈতিক বন্দীদের কেউ এই সাধারণ ক্ষময়ার আওতায় মুক্তি পাবেন কি না- এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানায়নি দেশটির সামরিক সরকার।
২০২১ সাল থেকে গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় চরম অস্থিরতায় দিন কাটাচ্ছে মিয়ানমারের জনগণ। ওই বছর সেনাবাহিনী নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে দেশের শাসনভার নেয়। এরপর থেকে দেশের বেশকিছু সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তারা।
মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্সের তথ্যমতে, অভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক অভিযোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।


