বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ হত্যা মামলায় অভিনেতা ইরেশ যাকের এবং ফোরথট পিআর (কনসার্ন অব এশিয়াটিক) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকরাম মঈন চৌধুরীকে অব্যাহতির সুপারিশ করে অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানিয়েছে ঢাকার আদালত। এর আগে, ৯ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক সাজ্জাদ রোমন এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথমত ইরেশ জাকের ও ইকরাম মঈন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে মামলার ঘটনাস্থল উপস্থিত ছিলেন মর্মে কোনো প্রত্যক্ষদর্শী এবং সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, তাদের ওইদিন ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিতির স্থিরচিত্র বা কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তৃতীয়ত, তারা সেখানে উপস্থিত থেকে মামলার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মামলার ঘটনা সংঘটিত করেছিলেন মর্মে কোনো তথ্যবহুল দালিলিক সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিধায় তাদের বিরুদ্ধে আনা অপরাধের দায় থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি প্রদান করে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ভবিষ্যতে আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রামাণ্য দালিলিক এবং বাস্তবভিত্তিক কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ২৭ মার্চ শ্রাবণ হত্যা মামলার ঘটনায় তার ভাই মোস্তফিজুর রহমান বাপ্পী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি মিরপুর মডেল থানা-পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪০৭ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার দিন ৫ আগস্ট বেলা আড়াইটার দিকে ছাত্রজনতার মিছিল মিরপুর মডেল থানাধীন শপিং কমপ্লেক্স এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আসামিদের নির্দেশে আওয়ামী লীগের পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণ মিছিলে অতর্কিত আক্রমণ চালান। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার শেল, রাবার বুলেট, রাইফেল, শর্টগান ও পিস্তলের গুলি ছোড়েন তারা। সে সময় আসামিদের গুলিতে শ্রাবণ আহত হন। চিকিৎসার জন্য রিকশায় করে মিরপুরের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


