ব্র্যাকের ড্রাইভিং স্কুলে প্রশিক্ষণ পাওয়া ১১ জন নারীর হাতে পেশাদার চালকের সনদ তুলে দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯শে এপ্রিল) এ উপলক্ষ্যে বিআরটিএ-এর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মো: ইয়াসীন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক আহমেদ নাজমুল হুসেইন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো: সাইফুল আলম এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম দুদু।
আয়োজকরা জানান, এই ১১ জন নারী ব্র্যাক ড্রাইভিং স্কুলে তিন মাসের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সুবিধাসম্পন্ন এই গাড়িচালনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিতে তারা তাত্ত্বিক ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় যোগাযোগের প্রশিক্ষণ এবং জেন্ডার ও সুরক্ষা (সেফগার্ডিং) বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণও পেয়েছেন। ইতিমধ্যেই তারা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ড্রাইভিং লাইসেন্সও পেয়েছেন।
বিআরটিএ-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইয়াসিন এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য ব্র্যাককে ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রশিক্ষিত নারী চালকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘দক্ষ জনসম্পদ হিসেবে নারীরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেন। একই সঙ্গে তারা গণপরিবহনে নারীদের হয়রানি ও নির্যাতন রোধে ভূমিকা রাখতে পারবেন। নারী চালকদের কর্মসংস্থানে সহায়তার জন্য বিআরটিএ-এর ওয়েবসইটে তাদের প্রোফাইল ও যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে নাজমুল হুসেইন বলেন, ‘একজন ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে তিনি চালক হতে পারেন। সেখানে এই নারীরা সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ ঘণ্টা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং সড়কে ১২০০ কিলোমিটার গাড়ি চালিয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে ব্র্যাকের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তারা জ্যেষ্ঠ গাড়িচালকদের অধীনে শিক্ষানবিশ পেশাদার গাড়িচালক হিসেবে আরও তিন মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।’
প্রশিক্ষণ পাওয়া নারী গাড়িচালক ইশরাত জাহান সোনিয়া বলেন, ‘আমরা শুধু গাড়ি চালোনো নয়, আরও অনেক বিষয় শিখেছি। এখন আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে গাড়ি চালাতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’ গাড়িচালক হিসাবে ভালো একটা চাকরির জন্যে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ২০১২ সালে ড্রাইভিং স্কুল চালু করে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ৩২৯ জন পেশাদার চালক, ১০ হাজার ৬২১ জন সাধারণ চালক এবং ৩ হাজার ৪৬২ জন নারী সাধারণ চালক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এছাড়াও ২ হাজার ৮০২ জনকে মোটরসাইকেল চালনা প্রশিক্ষণ এবং ৩৮৪ জনকে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।


