সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ঝড় তোলার পর এবার সরাসরি রাজপথে নামছে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আগামী শনিবার নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে এক প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা।
রাজপথের এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে দলটির সাংগঠনিক কাঠামোও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস ও রয়টার্সের।
গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘সিস্টেমের বা ব্যবস্থার যেখানে পচন ধরেছে, আমরা সেখান থেকে ন্যূনতম জবাবদিহিতা আশা করছি।’
এদিকে, সিজেপির এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন লাদাখের জনপ্রিয় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। শিক্ষা, পরিবেশ এবং হিমালয় অঞ্চলের মানুষের অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা এই সমাজকর্মীর সমর্থনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি প্রশ্ন ফাঁস, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) বাতিল এবং দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মূলত এসব কারণে তার পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি।
ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি মূলত একটি ব্যঙ্গাত্মক মিম পেজ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তবে নিজেদের এখন একটি শক্তিশালী ‘প্রেশার গ্রুপ’ (চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে তারা।
গত বুধবার দলটির পক্ষ থেকে তিন মুখপাত্রের নাম ঘোষণা করা হয়, যাদের মধ্যে একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, একজন গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং অন্যজন ভারতের খ্যাতনামা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় আইআইটির সাবেক শিক্ষার্থী।
দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, সিজেপি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক দল নয়, বরং যুবসমাজের স্বার্থে একটি প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করবে।
গত সোমবার এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে জানান, তিনি শনিবার ভারতে ফিরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন ব্যর্থতার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরছেন।
দীপকে তার সমর্থকদের দিল্লি বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, বিমানবন্দর থেকে সবাই মিলে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অনুমতি চাইবেন। এই আন্দোলন সম্পূর্ণ অহিংস ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ইতোমধ্যে আট লাখ ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা স্বাক্ষর করেছেন।
যেভাবে জন্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র
কয়েক দিন আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের তরুণ সমাজের একাংশকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছিলেন–এক শ্রেণির তরুণ আছেন যারা কোথাও কিছু করতে পারেননি, কোনো পেশায় জায়গা পাননি বা কাজ জোগাড় করতে পারেননি; তাদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক মাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, আবার কেউ তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী হয়েছেন। এই তরুণদের তিনি ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ তকমা দেন।
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ তরুণদের একাট্টা করতে সামাজিক মাধ্যমে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ চালু করেন অভিজিৎ দীপকে। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটিতে গিয়ে ঠেকে এবং এক্সে তাদের সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়।


