সরকারের সাম্প্রতিক পদোন্নতি তালিকায় নাম না থাকায় সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলী আকবর খান অবসর-পূর্ব ছুটির (পিআরএল) আবেদন করেছেন।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে ডিআইজি থেকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে আলোচিত এই পদোন্নতি তালিকায় সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান আলী আকবর খানের নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি পিআরএলের জন্য আবেদন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আলী আকবর খান বলেন, ‘এটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়।’
পুলিশ সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের মন্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, আলী আকবর খানকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে সিআইডির প্রধান করার একটি প্রস্তাব প্রশাসনিক পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয়নি।
সূত্রগুলো আরও জানায়, ২০০৬ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করেন আলী আকবর খান, যা দেশ জুড়ে সমালোচনার ঝড় তুলেছিল।
আলী আকবর খান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর তিনি এই আবেদনপত্র দাখিল করেছেন।
এর আগে, পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। যাদের মধ্যে দুজন আলী আকবর খানের ব্যচের (১৫ তম) এবং তিনজন ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা।
আবেদনপত্রে আলী আকবর খান উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকে তিনি অত্যন্ত সততা, দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর তাকে ওএসডি করা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বঞ্চনার পর ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি চাকরিতে পুনর্বহাল হন।
আবেদনে তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও আহতদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের কারণেই তিনি পুনরায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পদোন্নতির তালিকায় তার নাম না থাকায় তিনি পুনরায় বৈষম্যের শিকার হয়েছেন বলে মনে করছেন।
তিনি লিখেছেন, নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা হওয়ার পরিবর্তে তিনি সরকারি চাকরি আইন-২০১৮ এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর নিতে ইচ্ছুক।
আবেদন অনুযায়ী, আগামী ২ জুলাই থেকে তার এই অবসর কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ওই তারিখ থেকে এক বছরের পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) মঞ্জুরের জন্যও আবেদন করেছেন এই কর্মকর্তা। সিআইডি সদর দপ্তরের বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এএম হুমায়ুন কবীর স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের এই আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।


