রাজধানীর মিরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেয়। তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাশেদুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ গ্রেপ্তারের পক্ষে শুনানি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার জামিন আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ এলাকায় ফায়ার সার্ভিসের সামনে এক ব্যবসায়ী ও তার শ্যালক ভ্যানে কাপড় বিক্রি করছিলেন। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অস্ত্রসহ ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণ করে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় রাবার বুলেটের আঘাতে এক ব্যবসায়ী সড়কে পড়ে গেলে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
একই ঘটনায় ওই ব্যবসায়ীর শ্যালকও গুলিবিদ্ধ হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার বাম পায়ে গুলি লাগে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিক্ষেপ করা টিয়ারশেলের আঘাতে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। পরে তাকে পঙ্গু হাসপাতাল ও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় সাবেক এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। ফলে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে জেলহাজতে থাকা এই আসামিকে বর্তমান মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো জরুরি।


