রাজধানী ঢাকার গুলশান থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিন অজয় কর খোকনকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, গুলশান থানার উপপরিদর্শক সিদ্ধার্থ মণ্ডল তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি অজয় কর খোকন বলেন, ‘২৮ বছর আগে আমি ছাত্রলীগের সেক্রেটারি ছিলাম। এরপর আর কোনো রাজনীতিতে সক্রিয় নই। সাড়ে ১৫ বছর ধরে আমার কোনো পদ-পদবি নেই। বর্তমান এমপি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ অনেকেই আমার বন্ধু। তারা আমার বিরুদ্ধে খারাপ কিছু বলতে পারবে না। আমি কয়েকবার মনোনয়ন চেয়েছি, পাইনি। সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে থেকেছি।’
‘আমি কিশোরগঞ্জের মানুষ। আমার এলাকায় কেউ আমাকে খারাপ বলতে পারবে না। ৫ আগস্টের আগে কিশোরগঞ্জে কাউকে নির্যাতন করেছি—এমন কোনো রেকর্ড নেই। বিএনপি নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হলেও আমি প্রতিবাদ করেছি। ছয় মাস ধরে জেলে আছি। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ও আপনার কাছে আমি ন্যায়বিচার চাই’ যোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুজ্জোহা সুমন জানান, অজয় কর খোকন শেখ হাসিনার অত্যন্ত আস্থাভাজন। ছাত্রলীগকে ব্যবহার করেই শেখ হাসিনা পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পরিকল্পনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের আসামিরা সাধারণ নয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
পরে তাকে গুলশান থানায় তৌহিদ মিয়ার দায়ের করা হত্যাচেষ্টার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয় আদালত। মামলার বিবরনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আন্দোলন চলাকালে দুপুরে নতুন বাজার এলাকায় পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এসময় রাস্তা পার হতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন বাদী তৌহিদ মিয়া। এর এক বছর পর তিনি গুলশান থানায় মামলা করেন।
গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে অজয় কর খোকনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই রয়েছেন।


