বাংলাদেশের ফুটবলে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। সাধারণ মানুষের উন্মাদনা আর আগ্রহের কেন্দ্রে থাকা এই খেলাটিতে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। এবার দেশের ফুটবলের উন্নয়নে অংশীদার হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। সেই আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই আজ বাফুফে ভবনে পা পড়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের।
বাফুফে ভবনের গুমোট ভাব কেটেছে আগেই, এখন সেখানে নতুন দিনের ব্যস্ততা। আজ দুপুরে বাফুফে ভবনে এসে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসেন ইইউ রাষ্ট্রদূত। আলোচনার মূল এজেন্ডা ছিল বাংলাদেশের ফুটবলে বিনিয়োগ ও অবকাঠামগত উন্নয়ন। তবে এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তি বা বড় কোনো ঘোষণা আসেনি। রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেছেন, বাফুফের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেলেই তাঁরা বিনিয়োগের বিষয়টি ভেবে দেখবেন।
‘রেডিমেড সমাধান নেই, প্রস্তাব চাই’ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাইকেল মিলার বেশ খোলামেলাভাবেই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোতে বিনিয়োগের সুযোগগুলো খতিয়ে দেখতে। আজকের আলোচনা ছিল একেবারেই প্রাথমিক। আমরা মূলত অবকাঠামোগত বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। ফেডারেশনের কাছ থেকে আমরা এখন একটি প্রস্তাবের অপেক্ষায় থাকব, এরপর সেই অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাব।’
মিলার আরও জানান, শুধু বাফুফে নয়, অন্যান্য ফেডারেশনের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা আছে তাদের। তবে ফুটবলের জন্য জাদুর কোনো কাঠি তাদের হাতে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাফুফের জন্য আমাদের কাছে রেডিমেড কোনো সমাধান নেই। তবে আমরা আলোচনা ও সম্পৃক্ততায় আনন্দিত। কীভাবে বাস্তব পরিবর্তন আনা যায়, সে বিষয়ে আলোচনার জন্য আমাদের নিজ নিজ (ইউরোপীয়) ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে বাফুফেকে যুক্ত করে দিতে আমরা প্রস্তুত।’
কারিগরি দিকেই তাবিথের নজর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় শক্তির আগ্রহকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। তবে তাড়াহুড়ো না করে, পরিকল্পিতভাবে এগোতে চান তিনি। প্রস্তাব পাঠানোর বিষয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা হলো, নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আমরা সবাই মিলে একটি প্রস্তাব তৈরি করব। আমাদের স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নতির জন্য কোন পথটি সহজ হবে, তা বিবেচনা করেই আমরা পুরো প্রোগ্রামটি সাজাব।’
প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত জানানোর আশ্বাস দিয়ে তাবিথ আউয়াল যোগ করেন, ‘সব ঠিক হয়ে গেলে আমরা আপনাদের বিস্তারিত জানাব। তবে নিশ্চিতভাবেই আমাদের মূল ফোকাস থাকবে কারিগরি বিষয়গুলোর ওপর।’
ইউরোপীয় ফুটবলের কাঠামো ও কারিগরি সহায়তা যদি বাংলাদেশের ফুটবলে যুক্ত করা যায়, তবে তা দেশের ফুটবলের জন্য একটি বড় মাইলফলক হতে পারে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন অপেক্ষা বাফুফের সেই সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবের।


