উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থা অমান্য করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের (গাসিক) প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
জমির মালিকের আমমোক্তার মো. মাসুদুর রহমানের পক্ষে তার আইনজীবী মো. ইয়াদনান রফিক রেজিস্ট্রি ডাকযোগে রোববার এই নোটিশ পাঠান।
নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন–গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মুহাম্মদ সোহেল হাসান এবং জোন–৫ এর জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ১৯৫৬ সাল থেকে নোটিশদাতা ও তার পূর্বসূরিরা সংশ্লিষ্ট জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। ২০২৩ সালে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অনুমোদনহীনভাবে ওই জমিতে রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হলে ভুক্তভোগী হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর হাইকোর্ট উক্ত সম্পত্তির ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, আদালতের নির্দেশে সিটি কর্পোরেশন যে জরিপ প্রতিবেদন দাখিল করে, তা অসম্পূর্ণ ও আপত্তিকর ছিল। রিটকারী পক্ষ হলফনামার মাধ্যমে ওই প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে বিষয়টি শুনানির জন্য ওঠে।
শুনানি শেষে আদালত রাস্তা নির্মাণসংক্রান্ত কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি নথির সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেন এবং কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। পরে ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থিতাবস্থার মেয়াদ আরও ছয় মাসের জন্য বাড়ান।
আইনি নোটিশে অভিযোগ করা হয়, উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও এ বছরের ১৫ জানুয়ারি সিটি কর্পোরেশনের লোকজন আকস্মিকভাবে ওই জমিতে প্রবেশ করে নির্মাণকাজ শুরু করে, যা আদালতের আদেশের সরাসরি লঙ্ঘন।
এ ছাড়া আরএস মৌজা ম্যাপ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ ‘৬০৩৬’ দাগের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সেটি কোনোভাবেই রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত নয় বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে বিবাদীদের নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমিতে চলমান সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ এবং সেখানে রাখা নির্মাণসামগ্রী অপসারণের অনুরোধ জানানো হয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।


