দেশে প্রথমবারের মতো নতুন সিনথেটিক মাদক এমডিএমবি এর চালান জব্দ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এটি পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের সব সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
শুক্রবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-খন্দকার তৌকিরুল কবির তামিম (২৬), মেহেদী হাসান রাকিব (২৬), মো. মাসুম মাসফিকুর রহমান ওরফে সাহস (২৭) এবং মো. আশরাফুল ইসলাম (২৫)।
এদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি দেশে ই-সিগারেট এবং ভ্যাপোরাইজারের কার্টিজের ভেতরে নতুন ধরনের সাইকোঅ্যাকটিভ সাবসট্যান্সসহ এমডিএমডির ব্যবহার বেড়েছে।
সিনথেটিক এই মাদকের বিস্তার রোধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ঢাকার একটি গোয়েন্দা দল নজরদারি করছিল। তাদের অভিযানেই ঢাকার মিরপুর থেকে ধরা পড়ে মাদক কারবারিরা।
উদ্ধার হওয়া আলামতের মধ্যে রয়েছে ৩৪০ মিলি এমডিএমবি, এটি গ্রহণে ব্যবহৃত ভেপ মেশিন, ই-লিকুইন এবং এমডিএমবি বিক্রির জন্য প্রস্তুত খালি ক্যানিস্টার।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অনলাইন-ডার্ক ওয়েবে নজরদারিতেই নতুন এই মাদক ধরা পড়ে।
অধিদপ্তরের গোয়েন্দা দল অফলাইন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডার্ক ওয়েবে নজরদারি শুরু করে। এ সময় ভেপ এর মাধ্যমে গোপনে ছড়িয়ে পড়া নতুন এই সিনথেটিক মাদকের সন্ধান পাওয়া যায় ।
যেভাবে বিক্রি হতো এমডিএমবি
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপ, রিভিউ পেজ ও ভুয়া অ্যাকাউন্টে গোপন সাংকেতিক পোস্ট দিত। আগ্রহী ক্রেতারা ইনবক্সে মেসেজ পাঠালে সেখানেই সাংকেতিক ভাষায় দাম নির্ধারণ,অবস্থান, লাইভ ট্র্যাকিং এ নির্দিষ্ট ইমোজি ব্যবহার করে সরবরাহ নিশ্চিত করা হতো।
কেমন ক্ষতি?
সিনথেটিক মাদক এমডিএমকি অল্প কিছু মানুষের স্নায়ুতন্ত্র বিপর্যস্ত করতে সক্ষম। এই মাদক দ্রুত নেশা ধরায়, হ্যালুসিনেশন, আক্রমণাত্মক আচরণ থেকে শুরু করে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক হওয়ার মতো মারাত্মক শারীরিক ঝুঁকি তৈরি করে।
গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির খোঁজ পাওয়া গেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।


