জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান ঘিরে আশুলিয়ায় ছয়জনের মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।
সোমবার অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
এদিন ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবুল হাসান, সুজাদ মিয়া ও আসাদুজ্জামান বাবু। পরে মামলাটিতে মঙ্গলবার পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।
গত বছরের ২ জুলাই মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২ জন, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটিতে ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেয় এবং পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয়জন প্রাণ হারান। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মৃতদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেওয়া হয়নি। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়।


