স্থানীয় সরকার: অক্টোবরে নির্বাচন শুরুর চিন্তা ইসির

স্থানীয় সরকার: অক্টোবরে নির্বাচন শুরুর চিন্তা ইসির
প্রতীকী ছবি
Advertisement
Advertisement

আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং অক্টোবরে ভোটগ্রহণ শুরুর লক্ষ্য সামনে রেখে কর্মকর্তাদের আগামী দুই মাসের মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ সময়ের মধ্যে ভোটকেন্দ্র হালনাগাদ, প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সামগ্রী প্রস্তুত ও প্যাকেজিং এবং আইন-বিধিমালার জরুরি সংশোধন কাজ শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার ঈদ-পরবর্তী এক বৈঠকে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব আখতার আহমেদ এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রস্তুতি, ভোটকেন্দ্র হালনাগাদ, নির্বাচনী সামগ্রী প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সূত্র আরও জানায়, এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সর্বোচ্চ চার ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে অধিকাংশ ইউনিয়নের ভোট প্রথম তিন ধাপের মধ্যেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোর মতো কেন্দ্রীয়ভাবে ধাপ নির্ধারণ না করে এবার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের এ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা এবং স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজ নিজ জেলার ভোটের ধাপ নির্ধারণ করবেন।

বৈঠকে নির্বাচনী ভোটকেন্দ্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক বেশি কেন্দ্রের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিগত সময়ের মধ্যে অনেক বেসরকারি স্কুলের ঠিকানা পরিবর্তন হয়েছে, কিছু স্কুল ভাড়া বাড়ি থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং অনেক কেন্দ্রের সংস্কার প্রয়োজন। ফলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলো যাচাই-বাছাই করে নতুন তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

এ ছাড়া ভোট গ্রহণে ব্যবহৃত মালামাল, স্ট্যাম্প, প্যাকেজিং সামগ্রীসহ অন্যান্য উপকরণের মজুত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। কোথাও ঘাটতি থাকলে দ্রুত তা পূরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া, নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা দ্রুত প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন ও বিধি চূড়ান্ত করার আগে রাজনৈতিক দল, সুশিল সমাজসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হবে।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জাতীয় নির্বাচনে যে মানদণ্ড স্থাপন করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তার নিচে নামা যাবে না, বরং সেই মান আরও উন্নত করার চেষ্টা করতে হবে। ভোটের পরিবেশ ও গ্রহণযোগ্যতা কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করা যাবে না।

অন্যদিকে, বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে অনেক সময় আছে, কিন্তু বাস্তবে হাতে একদম সময় নেই। অক্টোবরে ভোট করতে হলে আগস্টেই তফসিল দিতে হবে। অর্থাৎ প্রস্তুতির জন্য সময় মাত্র দুই মাস।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন-কানুন ও বিধিমালা সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। আইন সংশোধনের জটিলতা এড়াতে শুধুমাত্র ম্যান্ডেটরি বা অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলোই সংশোধন করা হবে।

এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বলেন, অধিকাংশ নির্বাচনী মালামাল কমিশনের কাছে আগে থেকেই মজুত রয়েছে। নতুন করে কিছু সংগ্রহের প্রয়োজন হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

তিনি জানান, আইন ও বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে কমিশন ও কর্মকর্তারা যৌথভাবে বসে আলোচনা করলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যাবে।

বৈঠকে এনআইডি সংশোধন জটিলতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সূত্র জানায়, কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ইসি রহমানেল মাছউদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য বর্তমানে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেলেও এনআইডি সংশোধন জটিলতার কারণে বদনাম হচ্ছে। জনগণের কোনোভাবেই ভোগান্তি দেওয়া যাবে না।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad