সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সংগীত শিক্ষা বিষয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী জানান, উপজেলা পর্যায়ে ক্লাস্টারভিত্তিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সংগীত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষকরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ক্লাস নেবেন।
নিতাই রায় আরও বলেন, ‘এরইমধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্কুল পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি সংগীত শিক্ষাও নিশ্চিত করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে, একইভাবে সংগীত বিষয়েও প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে।
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষক ছিল না, মূলত জেলা পর্যায়ের কিছু প্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা ছিল। সে সময় কিছু ভালো সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কিছু এড়ানো যেত- এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।’
তবে এমন সিদ্ধান্ত ইচ্ছাকৃতভাবে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন না।
পহেলা বৈশাখ উদযাপন নিয়ে তিনি বলেন, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতেই সরকার কাজ করছে। ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামটি ফিরিয়ে আনা হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মঙ্গল আর আনন্দের মধ্যে পার্থক্যটা কী? আসলে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। মঙ্গল শোভাযাত্রায় যতখানি আনন্দ আছে, একই ধরনের আনন্দ এই আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্যেও আছে।’
নানা বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী আশা করেন, রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সমাজে সহাবস্থান বজায় থাকবে।


