রংপুরে এক স্কুলছাত্রকে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মারামারি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় দুই যুবকের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। এদের মধ্যে একজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর মহানগর সমন্বয় কমিটির সদস্য।
এর আগে সোমবার রাতে নগরীর পার্কের মোড়ে এক স্কুলছাত্রকে পিস্তল ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর সময় রাকিবুল ইসলাম তুষার এবং এনসিপির রংপুর মহানগরের সার্চ কমিটির সদস্য রাগিব হাসনাইনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে অভিযুক্তদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ তাদেরকে মারামারি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে পাঠালে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে নগরীর মুনশিপাড়া এলাকার পার্কের মোড়ে কামাল কাছনা এলাকার এক কিশোর আরেক কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে যায়। ওই কিশোরী তার প্রেমিকা বলে পুলিশের কাছে কিশোরটি দাবি করেছে। এ সময় ওই কিশোরীর ‘সাবেক প্রেমিক’ ১৫ বছরের আরেক কিশোর লোকজন নিয়ে কামাল কাছনা এলাকার কিশোরকে মারধর করে। শুক্রবার বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।
এরপর সোমবার সন্ধ্যায় দুই কিশোর আবার তর্কে জড়ায়, দুজনের মধ্যে হাতাহাতিও হয়। স্থানীয়রা আবারও বিষয়টি সমাধান করে দুইপক্ষকে এলাকায় পাঠিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এক যুবক জানান, এর কিছুক্ষণ পর এনসিপির রংপুর মহানগরের সার্চ কমিটির সদস্য রাগিব হাসনাইন ও রাকিবুল ইসলাম ওরফে তুষার মোটরসাইকেলে করে আট-দশ জন যুবক নিয়ে কথিত ‘সাবেক প্রেমিক’ কিশোরের মাথায় পিস্তল ঠেকায়। এ সময় স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এ সময় মহানগর এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়ক শান্তি কাদেরীসহ কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় উপস্থিত হন। শান্তি কাদেরী বলেন, ‘আমরাও খবর পেয়ে থানায় এসেছি। রাগিব মহানগর এনসিপির সমন্বয়ক, সে সার্চ কমিটির সদস্য। সে হিসেবে আমরা বিষয়টি জানতে থানায় এসেছি। কাউকে ছাড়াতে নয়।’
মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ জানান, এ ঘটনায় মারামারি ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আটকদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটা পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
এটি ব্যালেস্টিক পরীক্ষার জন্য ফরেনসিকে পাঠানো হবে। পিস্তলটি আসল প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


