গুমসহ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে একদিন করে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেয়।
আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেন, এ মামলায় ফজলে করিম ও জিয়াউলকে আমরা গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করছি। পাশাপাশি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সুবিধাজনক সময়ে একদিন করে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাই। পরে আবেদন মঞ্জুর করে ট্রাইব্যুনাল।
ফজলে করিমের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও জিয়াউলের পক্ষে ছিলেন নাজনীন নাহার।
এ ছাড়া এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময়ের আবেদন করে প্রসিকিউশন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২১ জুন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০১০ সালে চট্টগ্রামের রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু জাফরকে তুলে নেওয়া হয়। গুমের পর তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফজলে করিম ও জিয়াউলের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তোলে প্রসিকিউশন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ বেশ কয়েকজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। সেই মামলায় তিনি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এ ছাড়া পতিত আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম, খুনের ঘটনায় আরেকটি মামলায় জিয়াউল আহসান গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই মামলাটি ইতোমধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছে।


