ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
মঙ্গলবার এ বিবৃতিতে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এই উদ্বেগ ও নিন্দা জানানো হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওচিত্রে বরাত দিয়ে সেখানে বলা হয়েছে, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে আঘাত করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পরেও একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে বেধড়ক লাঠিপেটা ও কিল-ঘুষি মারার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের আচরণ চরম অপেশাদার মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ন্যূনতম আচরণবিধির পরিপন্থী।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার নামে কোনোভাবেই অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সহিংস আচরণ নাগরিক অধিকার ও ব্যক্তির নিরাপত্তার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে আসক। সেই সঙ্গে দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে।
একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আসক অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, ‘পুলিশ বিভাগের সদস্যদের বলপ্রয়োগের মতো অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য আচরণ থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হোক।’
আসক বিশ্বাস করে, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমেই কেবল নাগরিক আস্থা সুদৃঢ় করা সম্ভব। পাশাপাশি এ ঘটনায় যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধও জানানো হয়।


