জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার নির্দেশের পরে সারা দেশে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর প্রবণতা বেড়ে যায় বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ওই সময় শেখ হাসিনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মরণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একজন সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনার এমন নির্দেশনা ছিল অমানবিক ও ভয়াবহ।
রোববার নিজ কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এর আগে এদিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। এই মামলার অন্যতম আসামি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার টেলিফোন কথোপকথনে নির্দেশনার বিষয় উঠে আসে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওপেন নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছেন। লেথাল ওয়েপন ব্যবহার ও যেখানে পাবে সোজা গুলি করার কথা বলেছেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুর এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। সবচেয়ে আবেগের জায়গা হচ্ছে ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। সেই হত্যাকাণ্ডে আবেগাপ্লুত হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, মোহাম্মদপুরের এ মামলায় সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, ইন্ডিভিজ্যুয়াল রেসপনসিবিলিটি ও টার্গেটেড কিলিংয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।


