দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়াতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
চলতি অর্থবছরের সংশোধিক বাজেটের তুলনায় টাকার অঙ্কে বরাদ্দ বাড়ছে ৪৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আর শতকরা হিসেবে বাড়ছে ৫৬ শতাংশ। তারপরেও একজন শিক্ষাবিদ বলেছেন, বিএনপির যে নির্বাচনি অঙ্গীকার, সেই অনুপাতে তিনি আরও বেশি বরাদ্দ আশা করেছিলেন।
দুই দশক পর ক্ষমতায় ফেরা বিএনপি নির্বাচনের আগে বাজেটে মোট জাতীয় আয়-জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ করার অঙ্গীকার করেছিল। তবে নেতারা বলেছেন, এটি একেবারে নয়, ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন, তাতে শিক্ষায় বরাদ্দ রাখা হচ্ছে জিডিপির ২ শতাংশ, যা টাকার অঙ্কে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। চলতি বছরের সংশোধিত বরাদ্দ ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
এই খরচের মধ্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ১ লাখ ২২ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। বস্ত্র, রেল, প্রতিরক্ষা, কৃষি, মৎস্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এসব মন্ত্রণালয় পরিচালিত শিক্ষা/কারিগরী প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য বরাদ্দ থাকছে ১৩ হাজার কোটি টাকা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকার মধ্যে পরিচালন ব্যয় থাকছে ২৫ হাজার ২৯৭ কোটি এবং উন্নয়ন বরাদ্দ ২১ হাজার ৪৪০ কোটি।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে মোট ৫৭ হাজার ১ কোটি টাকার মধ্যে পরিচালন বরাদ্দ থাকছে ৩২ হাজার ৮৯৭ কোটি এবং উন্নয়ন ২৪ হাজার ১০৪ কোটি টাকা।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে মোট ১৮ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকার মধ্যে পরিচালন বরাদ্দ ১১ হাজার ৭৩৪ কোটি এবং উন্নয়নে ৭ হাজার ২৩ কোটি টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকার সংশোধিত বাজেটে শিক্ষা খাতের মোট বরাদ্দ কমিয়ে ৮৫ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা করা হয়েছিল, যেখানে মূল বাজেট ছিল ৯৫ হাজার ৬৪৪ কোটি টাকা।
সংশোধিত বরাদ্দের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৩১ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৪১ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ দেওয়া হয় ১২ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৭১ হাজার ৪৫১ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ২৫ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৩৬ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ৯ হাজার ৮৯ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়।
প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ উন্নয়নে
শিক্ষায় পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধির হার আরও বেশি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ২১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যেখানে চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ১১ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংশোধিত বাজেট ৮ হাজার ৬১ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪-এর প্রকৃত হিসাব ছিল ৭ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য বাজেটে এডিপি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৬ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এটি ছিল ৩ হাজার ৬৬০ কোটি এবং সংশোধিত বাজেটে ৩ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকৃত হিসাব ছিল ১ হাজার ৯১ কোটি টাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য এবার এডিপি রাখা হচ্ছে ২৪ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটে ছিল ১৯ হাজার ১১৩ কোটি এবং সংশোধিত বাজেটে ৯ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪-এর প্রকৃত হিসাব ছিল ৬ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা।
বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘সরকারের ইশতেহারে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ করার কথা বলা ছিল। একবারে তো এতোটা বাড়ানো সম্ভব না। তবে আমরা ভেবেছিলাম জিডিপির অন্তত ২ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হবে এবার।’
এই বাজেট যাতে সুষ্ঠুভাবে ব্যবহার করা হয়, দুর্নীতি অনিয়ম না হয়, এমনকি এই বাজেট ব্যয়ের ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে কোনো প্রভাব যাতে বিস্তার করা না হয় সেই বিষয়ে সরকারের কঠোর মনিটরিং করার দাবিও জানিয়ে রাখলেন তিনি।
‘আমরা আশা করব আগামী বছর এটা আরও বাড়বে এবং এবং আগামী বছর বা তার পরের বছর যাতে শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত হয়, সেই প্রত্যাশা থাকবে”, বলেন রাশেদা।


