জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের নীতিমালায় সংশোধন আনার দাবি জানিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। তাদের প্রস্তাবে পিএইচডি ও এমফিল শিক্ষার্থীদের ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার সুযোগ, অর্থ সম্পাদক পদ বিলোপ এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদকসহ নয়টি নতুন পদ যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক সাবিনা শারমিন বরাবর লিখিত প্রস্তাব জমা দেয় সংগঠনটি।
সেখানে উল্লেখ করা হয়, জবিতে শুধু অনার্স সম্পন্ন করা এমফিল/পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ নিয়মিত ছয় বছর এবং বিশেষ প্রয়োজনে আট বছর নির্ধারণ করতে হবে। তবে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অনার্স/মাস্টার্স শেষ করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য মেয়াদ বৃদ্ধির সুস্পষ্ট নিয়ম তৈরি এবং খসড়া নীতিমালা শিক্ষার্থীদের সামনে প্রকাশ করতে হবে।
প্রস্তাবে জকসুতে নতুন করে নয়টি সম্পাদকীয় পদ যুক্তের দাবি জানানো হয়।
এগুলো হলো— স্বাস্থ্য, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী, মিডিয়া ও যোগাযোগ, সংস্কৃতি, দক্ষতা উন্নয়ন, আইন ও মানবাধিকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক।
বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক পদ অন্তর্ভুক্তির পক্ষে বলা হয়, ‘ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৬৯ ও ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭৫ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লব এবং ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে এ পদ প্রয়োজন।’
অর্থ সম্পাদক পদ বিলোপের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ‘নীতিমালায় কোষাধ্যক্ষ পদ বিদ্যমান থাকায় অর্থ সম্পাদক রাখা পুনরাবৃত্তি এবং অনেক সময় সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এতে মর্যাদাগত জটিলতাও দেখা দিতে পারে এবং মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অর্থ সম্পাদক পদ বাদ দেওয়াই যৌক্তিক।’
নতুন কিছু বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন জানিয়ে জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, ‘আগে থেকেই জকসু নিয়ে আমাদের বিভিন্ন পরামর্শ ছিল। আশা করি এসব প্রস্তাব আমলে নেওয়া হবে।’


