বলিউডের বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার ও সালমান খানের বাবা সেলিম খানের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) তাকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তবে পরিবার কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার পর তার মস্তিষ্কের ডান পাশে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য, একটি রক্তনালি ফেটে যাওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। সন্ধ্যায় প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে তার অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ বলা হলেও তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় গণমাধ্যম পিঙ্কভিলা জানায়, তাকে ডিজিটাল সাবট্রাকশন এনজিওগ্রাফি প্রক্রিয়ায় একজন স্নায়ুবিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডা. জালিল পার্কার জানান, ‘তিনি বর্তমানে ভালো আছেন। তার অবস্থা স্থিতিশীল, তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে। আশা করছি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তার ভেন্টিলেটর খুলে দেওয়া যাবে।’
বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে শুটিং ছেড়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান সালমান খান। গভীর রাতে হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে স্পষ্টতই উদ্বিগ্ন ও বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। পরিবারের প্রায় সবাই হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন আরবাজ খান, হেলেন, অতুল অগ্নিহোত্রী, আয়ুষ শর্মাসহ অন্য সদস্যরা। খোঁজ নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন জাভেদ আখতার ও সঞ্জয় দত্ত। ইন্ডাস্ট্রির আরও অনেকে তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
৯০ বছর বয়সী সেলিম খান হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী চিত্রনাট্যকার। জাভেদ আখতারের সঙ্গে তার ‘সেলিম-জাভেদ’ জুটি সত্তরের দশকে মূলধারার হিন্দি চলচ্চিত্রে বড় পরিবর্তন আনে। তাদের লেখা চিত্রনাট্য থেকে জন্ম নেয় কালজয়ী ছবি— শোলে, দিওয়ার, জঞ্জির এবং ডন। এই জুটির হাত ধরেই পর্দায় উত্থান ঘটে ‘অ্যাংরি ইয়াং ম্যান’ চরিত্রের, যা জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয় অমিতাভ বচ্চনকে।
বর্তমানে সেলিম খানকে ঘিরে উৎকণ্ঠা কাটেনি। বুধবার বেলা ১১টায় চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আপডেট দেওয়ার কথা থাকলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক নতুন কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নতুন তথ্য এলে তা হালনাগাদ করা হবে।


