ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবিতে ঢাকার শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ভোলা জেলার বাসিন্দারা। পরে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে অবরোধ তুলে নেন তারা।
তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সবাইকে অপেক্ষায় থাকতে হবে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদ মনসুর টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আন্দোলনকারীরা সাড়ে ছয়টার দিকে শাহবাগ মোড় ত্যাগ করে। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।’ তবে কয়েকজন জাতীয় জাদুঘরের সামনে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে, শুক্রবার বিকাল পৌনে ৪টায় তারা শাহবাগ চত্বর অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল।
পরে তারা শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে মার্চ করার কর্মসূচি ঘোষণা করে। এদিন জুমার নামাজের পর বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় শাহবাগ থেকে বাংলামোটরমুখী সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশ।

এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের প্রধান দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ। ভোলার প্রতিটি মানুষ এই দাবির সঙ্গে একমত। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য এই সেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই দাবির সঙ্গে ভোলাবাসীর সমর্থন রয়েছে। যে কারণে দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছি। আশা করব, সরকার দাবি মেনে নিয়ে খুব দ্রুত ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ নেবে।
তারা বলেন, কয়েকদিন ধরে সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শাহবাগে কর্মসূচি পালন করছি। একটি মিছিল বের করেছি, যেখানে হাজারো মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। আমরা দাবি বাস্তবায়ন চাই। ভোলা-বরিশাল সেতু চালু হলে দুই দিকের মানুষের সংযোগ স্থাপন হবে, মানুষ খুবই উপকৃত হবে।

আন্দোলনকারীদের একজন ইসমাঈল সুমন টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত একটি সেতু নির্মাণ আমাদের প্রধান দাবি। যাতায়াতে আমরা চরম দুর্ভোগের শিকার হই। নদী পারাপারের ক্ষেত্রে লঞ্চের ওপরই নির্ভর করতে হয়, ফলে রাতের বেলায় যাতায়াত প্রায় অসম্ভব। চিকিৎসার জন্য কাউকে ঢাকায় আনতে হলেও অনেক সময় পুরো একটি দিন অপেক্ষা করতে হয়।’
আন্দোলনকারীরা ভোলা জেলা থেকে আগত কিংবা চাকরির জন্য আগে থেকে ঢাকা ছিল বলে জানান তিনি।


