‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিলুপ্তি স্বাধীন বিচার বিভাগ ধ্বংসের নীলনকশা’

‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের বিলুপ্তি স্বাধীন বিচার বিভাগ ধ্বংসের নীলনকশা’
Advertisement
Advertisement

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করে কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়ার ঘটনাকে স্বাধীন বিচার বিভাগ ধ্বংসের নীলনকশা বলে আখ্যায়িত করেছেন এনসিপি সমর্থিত ন্যাশনাল লয়ার্স অ্যালায়েন্সের (এনএলএ) আইনজীবীরা।

সংগঠনটির নেতা জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, স্বাধীন এবং পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সাধারণ মানুষ ও বিচারকদের যে আকাঙ্ক্ষা, সেটিতে বিএনপি সরকার খুবই বাজে একটি হস্তক্ষেপ করেছে।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি।

মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, ‘ওই রায়ের নির্দেশনার আলোকে স্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকার বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার জন্য তাদের যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেই নীলনকশা জনমানুষের সামনে প্রকাশিত হলো। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে অধ্যাদেশ জারির সময় বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল উচ্ছ্বসিত অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছিলেন। অধ্যাদেশ প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বর্তমান আইনমন্ত্রী, যিনি তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন; তিনিও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে এই দুজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির নীরবতা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ আমাদের ব্যথিত করেছে। জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে আপনারা রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবেন না। নিয়ন্ত্রিত বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আপনারা করবেন না। আপনাদের ৩১ দফার যে ওয়াদা ছিল সেটি আপনারা মেনে নেন।’

এনএলএর সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের আহ্বায়ক মোস্তফা আজগর শরিফী বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের আলোকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করলাম সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের নির্দেশনার মধ্য দিয়ে আবার আইন মন্ত্রণালয়ে ফেরত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সচিবালয় কার্যক্রমের যবনিকা ঘটানো হয়েছে।’

এই আদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগ, নিম্ন আদালতের বিচারক এবং সাধারণ জনগণ সংক্ষুব্ধ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটা কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে হবে। সেই কার্যকর আইনের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগকে জবাবদিহির জায়গায় নিয়ে এসে একটি স্বাধীন ও স্বচ্ছ বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad