সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে জাহাজের টিকিটের সঙ্গে কিউআর কোডযুক্ত বিশেষ ভ্রমণ পাস চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এ বিষয়েও জালিয়াতি শুরু করেছে একটি বিশেষ চক্র।
সম্প্রতি ভ্রমণ পাসে জালিয়াতি করায় কক্সাবাজারের এলসিটি কাজল জাহাজকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসন। সেই সঙ্গে বৈধ পাস ছাড়া জাহাজে ওঠার সময় ২৫ জনকে আটক করা হয়। তারা সবাই টাঙ্গাইলের বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার সকালে জাহাজটিতে অভিযান চালিয়ে টিকিট ও ভ্রমণ পাস জালিয়াতি চক্রের খোঁজ পান জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফিস ইনতেসার নাফি। পরে চক্রের সাত সদস্যকে শনাক্ত করা হয়।
আটক পর্যটকরা জানান, ‘হিলশা ট্যুরিজম’ অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে রিফাতুল হাসান নামের ট্যুর গাইডের নেতৃত্বে রাতের বিভিন্ন সময় তারা কৌশলে কক্সবাজারে আনা হয়। এ সময় জাহাজের কর্মকর্তা রফিক ও অনিক তাদের সহায়তা করেন।
জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পর্যটকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে জাহাজের কর্মকর্তারা উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নাফি বলেন, ‘সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। আমরা পর্যটকদের নিরাপদ ও নিয়মিত ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের যাতায়াত সীমা নির্ধারণ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।
১০ মাস স্থগিত থাকার পর গত ১ ডিসেম্বর থেকে কক্সবাজার–সেন্ট মার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হয়। দ্বীপে ভ্রমণকারীদের বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে সেন্ট মার্টিনের ভ্রমণ পাস ও কিউআর কোড থাকবে। কিউআর কোডবিহীন টিকিট অবৈধ বিবেচিত হবে।


