‘সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না’

‘সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না’
রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না; গৌরব অর্জন ও ধারণ করতে হয়, আর সেই গৌরব রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীর নিজেদেরই।’

তারেক রহমান সেনা সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, ‘সেনাবাহিনী রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হওয়া উচিত নয়। পেশাদারিত্ব যেন রাজনীতির চাদরে আচ্ছাদিত না হয়ে যায়—সে বিষয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি ক্ষমতায় এলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)-এর নাম পুনর্বহালেরও ঘোষণা দেন তিনি।

শনিবার রাতে রাজধানী ঢাকার রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

তারেক রহমানের মতে, জনগণ সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে দেখে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে যুক্ত করলে তাদের মূল দায়িত্ব ব্যাহত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি অতীতেও সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ন করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।’

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর রাজনৈতিক অপশক্তি বিডিআরের নাম ও ইউনিফর্ম পরিবর্তন করেছিল দাবি করে এটিকে ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি অবমাননা বলেও মনে করেন তিনি।

আরও পড়ুন

ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর পিলখানা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবসকে ‘শহীদ সেনা দিবস’, ‘সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস’ অথবা ‘জাতীয় শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান।

মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের প্রস্তাবিত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন, সেনা আইনের কিছু বিধিমালার সংস্কারসহ বিভিন্ন সুপারিশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এ সময় সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের দাবি ‘ওয়ান র‌্যাংক ওয়ান পে’ এরই মধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ে তা বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর।

অনুষ্ঠানে বিগত ১৫ বছরে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর নিপীড়ন–নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে বক্তব্য দেন পিলখানায় নিহত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানসহ ঊর্ধ্বতন ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারেক রহমান অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad