দেশের ক্রীড়াবিদদের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো আজ। ময়মনসিংহের ত্রিশালে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ‘অলিম্পিক কমপ্লেক্স’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রোববার দুপুরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আর্মি ট্রেনিং স্কুলের পাশেই প্রায় ১৭৩ একর জায়গার ওপর এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে একটি সমন্বিত অলিম্পিক কমপ্লেক্সের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছিল। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে অলিম্পিক কমপ্লেক্সের স্বপ্ন দেখছি। অনেক স্থানে আমরা জায়গা দেখেছি এবং যেকোনো কারণেই হোক তা বাস্তবায়ন হয়নি। আর্মি ট্রেনিং স্কুলের পাশে এটি করার চিন্তা করি, এতে স্পোর্টসেরও ভালো হবে এবং তদারকিও করা যাবে। জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াতে আমরা বড় একটি অবদান রাখতে পারব।’
উদ্বোধনী ভাষণে সেনাপ্রধান এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে একটি যৌথ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই ভেন্যুতে এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসর আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ের যত প্রতিযোগিতা আছে সব এখানে করব, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাও এখানে করব। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইভেন্টগুলো অগ্রাধিকার পাবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও দেশীয় যেকোনো ক্রীড়াবিদ চাইলে এখানে অনুশীলন করতে পারবেন।’
বিশাল এই কর্মযজ্ঞের জন্য বড় অংকের অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘স্বপ্ন অনেক, কিন্তু প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। যেভাবেই হোক টাকা জোগাড় করতে হবে। আমরা সূচনা করেছি। যত তাড়াতাড়ি অর্থ পাওয়া যাবে, তত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। আমরা একটি আর্কিটেক্ট ফার্ম নিয়োগ দিয়েছি এবং বাইরের স্থপতিবিদও আসছেন।’ দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘কাজ শুরু হয়ে গেছে, শেষ হবে এক সময় না এক সময়। আমি মনে করি দেশ ও জাতির জন্য এটি বড় কাজ হবে। সবাই মিলে আমরা একটি অলিম্পিক ভিলেজ করতে চাই। আমরা দেখতে চাই দেশের ক্রীড়াঙ্গন অনেক এগিয়ে গেছে, তরুণ প্রজন্ম ও জাতি উপকৃত হচ্ছে। তাতে সুস্থ জাতি পাব আমরা।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘নব্বই দশকের পর বড় কোনো ক্রীড়া স্থাপনা হয়নি। এটি আমাদের কাছে স্বপ্ন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বপ্নের স্থাপনা হিসেবে পরিকল্পিত হবে।’ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা এবং প্রকল্প পরিচালক কর্নেল কুতুব উদ্দিন খান।


