সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। সোমবার সুইজারল্যান্ডের লুসার্নের মনোরম বুর্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে এই বৈঠক হয়।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার তিন দিনের মধ্যেই ইরান আবারও হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেয় এবং একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হামলার হুমকি দেন। ফলে চুক্তির আলোচনার শুরুটাই ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।
বৈঠক শেষে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির রূপরেখায় সম্মত হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়, সপ্তাহজুড়ে এই আলোচনা চলবে। এসব বৈঠক হবে কাতারের মালিকানাধীন সুইস রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবাননের সংঘাত অবসানেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র একমত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে একটি যোগাযোগব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
গত সপ্তাহে সই করা সমঝোতা স্মারকের আওতায় এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতি অন্তত আরও ৬০ দিন বাড়ানোর বিষয়ে রোববার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনা চলে সোমবার ভোর পর্যন্ত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, তারা তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির জন্য ছাড়পত্র, জব্দকৃত কিছু সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষ হয়েছে কি না- এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি হোয়াইট হাউস।
রোববার আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর ঠিক আগে ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তারা আবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা করলে তাদের আর কোনো দেশই থাকবে না’।
যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং সেখানে নিজস্ব টোলও আরোপ করতে পারে বলে হুমকি দেন তিনি।
এদিকে সুইজারল্যান্ডের আলোচনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, ট্রাম্পের হুমকি প্রকাশ্যে আসার পর ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনার কক্ষে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলতে থাকে।
তাসনিমের ওই সূত্রের দাবি, পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা শুরুর আগে সমঝোতা স্মারকের অন্য অংশ বাস্তবায়ন করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা এবং ইরানি তেল রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়পত্র দেওয়া।
চুক্তির আওতায় বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং লেবাননসহ সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ করার কথা রয়েছে। তবে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং হিজবুল্লাহও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের দাবি, লেবাননে সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা সপ্তাহান্তে আবারও হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ করেছে।
সুইজারল্যান্ডের বৈঠকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা মুখোমুখি হন। সেখানে জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘সংঘাত বন্ধের বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের জনগণের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।’


