কুমিল্লার বুড়িচং সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বন্দুকের নলের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন সফিক (২৯) নামে এক বাংলাদেশি যুবক। তাকে আশংকাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত সফিক সিলেট জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের খারেরা সীমান্তের ৭০ নম্বর পিলার সংলগ্ন জিরোপয়েন্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন খারেরা বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার আবু বক্কর সিদ্দিক।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ভোরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ওই এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় নারী এবং পুরুষ মানবপাচারকারীর সহায়তায় ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। এসময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের ধাওয়া দিলে সবাই পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও সফিক ভারতীয় জঙ্গলে লুকিয়ে থাকেন।
পরে বিএসএফ সদস্যরা তাকে আটক করে বন্দুকের নল দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক আঘাত করে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এরপর গুরুতর আহত অবস্তায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হলে সকাল ৯টার দিকে স্থানীয় মানবপাচারকারী মারুফ ও তার সহযোগীরা সফিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
গত ৫ আগস্টের পর থেকে এই সীমান্ত দিয়ে মানবপাচারকারীরা সক্রিয়ভাবে সাধারণ মানুষ ও আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভারতে যেতে সহায়তা করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এই কাজে সম্পৃক্ত। এ এলাকায় সক্রিয় ও পরিচিত মানবপাচারকারীদের মধ্যে রয়েছেন জামাল হোসেন, তৌফিক, আকরাম, তুহিন, মারুফ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন।
বিজিবি সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে থানায় ও বিজিবির দপ্তরে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, এক মাস আগে একই সীমান্তের ৭১ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে দুই নারী ভারতে অনুপ্রবেশের সময় মানবপাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হন ও তাদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণ ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্থানীয়দের দাবি, ওই সীমান্ত দিয়ে এখনো অবৈধ ভারতীয় পণ্যও দেশে ঢুকছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মানিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি আমরা শুনেছি, এলাকায় সবাই জানে।’
খারেরা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ক্যাম্পের সুবেদার আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। সরেজমিনে যাচাই করে এর সত্যতাও পেয়েছি। মানবপাচারকারীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে।’


