জয়ের একটু আফসোস হচ্ছে কি? 

জয়ের একটু আফসোস হচ্ছে কি? 
সিলেট টেস্টে ক্যারিয়ার সেরা ১৭১ রানের ইনিংস খেলেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। ছবি: বিসিবি
Advertisement
Advertisement

মাহমুদুল হাসান জয়ের একটু আফসোস হচ্ছে কি? 

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন নাজমুল হোসেন শান্ত আর লিটন দাস যেভাবে ব্যাট করেছেন, উইকেটের চারপাশে শট খেলেছেন, তাতে করে এই প্রশ্ন ওঠাও অস্বাভাবিক নয়। অষ্টম সেঞ্চুরি ছোঁয়া শান্ত ইনিংস শেষ করেছেন ৮৭.৭১ স্ট্রাইকরেটে। ৬৬ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলা লিটনকে দেখে মনে হয়নি টেস্ট খেলতে নেমেছেন। ওয়ানডে স্টাইলেই ব্যাট করেছেন এই দুজন। 

সিলেটের ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেটে জয়ও সেভাবেই ব্যাট করেছেন এক দিন আগে। ১৪ চার আর চারটি ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ১৬৯* রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছেন। কিন্তু তৃতীয় দিন সকালের সেশনে ব্যাট করতে এসে টিকলেন মাত্র ৩ বল,। প্রথম দুই বলে একটি করে সিংগেল আর পরের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট। অবশ্য বেরি ম্যাকার্থির বলটাও ছিল বেশ দারুণ। শর্ট লেন্থে পিচ করে অফস্টাম্পের বাইরে যেতে যেতে জয়ের ব্যাট ছুঁয়ে যায়। তাতেই বিপত্তি। 

দ্বিতীয় দিন যখন মাঠ ছাড়েন , তখন থেকেই একটা আলোচনা চলছিল, ডাবল সেঞ্চুরিটা করতে পারেন কিনা জয়। কারণ আইরিশদের এই বোলিং অ্যাটাক যে অত শক্তিশালী কিছু নয়, সেটা বুঝা গেছে দ্বিতীয় দিনই। তবুও সেই সুযোগ হাতছাড়া হলো তার। ১৭১ রানের বেশি করতে পারলেন না এই ডানহাতি ওপেনার। 

ডাবল সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ আছে জয়েরও। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই একটু হতাশ, কারণ আমার লাইফে প্রথম ডাবল হান্ড্রেড হতো যদি আমি ক্যারি করতে পারতাম। সো আমি বলবো যে একটু ডিসঅ্যাপয়েন্টেড যে ক্যারি করতে পারি নাই শেষ পর্যন্ত।”

আরও পড়ুন

তবে এই সেঞ্চুরিটা তার কাছে স্পেশাল হয়েই থাকবে। ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে গিয়ে প্রথম সেঞ্চুরি। এরপর বছর তিনেক তার ব্যাট থেকে আর বড় কোনো ইনিংস আসেনি। দলেও ছিলেন আসা-যাওয়ার মধ্যেই। সর্বশেষ শ্রীলংকা সফরের দলে জায়গা হারালেও এবার সুযোগ পেয়েছেন আয়ারল্যান্ড সিরিজের দলে। সুযোগ কাজে লাগালেন, করলেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। 

ডাবল সেঞ্চুরি মিস করলেও ১৭১ রানের ইনিংস নিয়ে খুশি জয়। যেখানে আছে দীর্ঘদিন দল দলে ফিরে পারফর্ম করার স্বস্তি, ‘অল ওভার বলবো আমি হ্যাপি, কারণ বেশ কয়েকদিন পর আমি টিমে আসছি এবং বেশ কয়েকদিন পর একটা ম্যাচ আমি টিমের হয়ে বল ইনিংসে খেলতে পারছি। আর বলবো যে আমি খুব হ্যাপি, বাট আগের তো বললাম যে যদি ডাবল হান্ড্রেড হতো আরেকটু ভালো হতো। একটু ডিসঅ্যাপয়েন্টেড।‘

বিশেষত তার অফ সাইডে শটের রেঞ্জ বেড়েছে আগের চেয়ে। ফুটওয়ার্ক হয়েছে সমৃদ্ধ, হেড পজিশন থাকছে স্টিল। বেশ কয়টা কভার ড্রাইভে চার মেরেছেন, সেসব ছিল দেখার মতো। সম্প্রতি জাতীয় লিগেও এক ম্যাচ খেলে করে এসেছেন সেঞ্চুরি, সেই ফর্মটাও ধরে রাখলেন জাতীয় দলের জার্সিতে। 

টেকটিক্যাল পরিবর্তন অবশ্য খুব বেশি করেননি তিনি। মূলত নিজের শক্তির জায়গা গুলোতেই নজর দিয়েছেন বাংলা টাইগার্স ক্যাম্পে, লোকাল কোচদের সাথে। জয় বলেন, “তেমন কিছু বড় কিছু চেঞ্জ করা হয় নাই। ওনারা জাস্ট আমাকে বলছে যে তুমি তোমার ন্যাচারাল খেলা খেলো, যেভাবে পারফর্ম করে আসছো, সেভাবে খেলো।”

টেস্টে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি বদলেছে বেশ কয়েকবার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পারফর্ম না করায়বাদ পড়েন জয়। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এনামুল হক বিজয়ের বদলে আবার সাদমানের সাথে ওপেন করেছেন তিনি। সেটাতেও হয়েছে বাজিমাৎ। এই দুজন একটু দেখে শুনে খেললেও প্রথম ইনিংসে ব্যাট করেছেন আগ্রাসী স্টাইলে। ওভারপ্রতি সাড়ে চারের বেশি গড়ে রান তুলেছেন। তাদের ব্যাট থেকেই গত ১০ বছরে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ ১৬৮ রানের জুটি দেখেছে বাংলাদেশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad