চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে গলাকেটে শিশু ইরা মনি (৭) হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাবু শেখ প্রকাশ মাহবুব আলম আদালতে জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
বুধবার জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা দিতে নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, বাবু শেখ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ সায়মা আফরীন হীমার আদালতে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত শেষ করে ২৭ এপ্রিলের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, আসামিকে এজলাসে আনা হলে কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে উপস্থিত আইনজীবীরা তার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন।
মঙ্গলবার ভোরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ইরা। গত রোববার সীতাকুণ্ড পৌর সদরের ইকোপার্কের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে গলা কাটা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, গত ১ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাত বছরের শিশু জান্নাতুল নিসা ইরাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে হাত ধরে সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে নিয়ে যায় প্রতিবেশী বাবু শেখ। পরে গলা কাটা অবস্থায় একাই হেঁটে পার্ক থেকে বেরিয়ে আসে শিশু ইরা।
জানা গেছে, কুমিরা এলাকার বাসিন্দা রিকশাচালক মনির হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশী বাবু শেখের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে তার শিশুকন্যাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ইকোপার্কের পাহাড়ে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালায় বাবু। ইরা চিৎকার করলে ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সে।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নামে। বাসা থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে আসামিকে শনাক্ত করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে চকলেটের খোসাসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।


