সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে চলছে শোকের মাতম। সেই শোকের ছায়া ছুঁয়ে গেছে ক্রীড়াঙ্গনেও। কোনো জাঁকজমক নেই, নেই উচ্চস্বরের বাদ্যবাজনা। এমন এক ভাবগ গম্ভীর পরিবেশেই শনিবার দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠল ‘১ম সিএএস আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর।
সেনাপ্রধানের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং স্কোয়াশ ফেডারেশনের আয়োজনে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ এই আসরে অংশ নিচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ মোট ৯টি দেশ। জাপান, বেলজিয়াম, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, হংকং, কুয়েত, বাহরাইন ও মিশরের মতো দেশ থেকে আসা ২৪ জন বিশ্ব র্যাঙ্কিংধারী খেলোয়াড় এখন ঢাকায়। আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা (ডব্লিউএসএফ ও পিএসএ অনুমোদিত) থাকায় গত ২ জানুয়ারি থেকেই মূলত খেলা শুরু হয়েছে, তবে আজ বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং চিফ এবং ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মুঃ হাসান-উজ-জামান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল হাসান-উজ-জামান বলেন, ‘সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েই আমরা বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলাকে পুনরুজ্জীবিত করে সামনের দিকে নেয়ার কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে আগামীতে স্কোয়াশ আরো এগিয়ে যাবে এবং বাংলাদেশের জন্যে সম্মান নিয়ে আসবে।’
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম (অব.) তাঁর বক্তব্যে দেশের স্কোয়াশকে শূন্য থেকে শিখরে নেয়ার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নিজস্ব কোর্টবিহীন হাজার সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে খুবই সীমিত সম্পদ দ্বারা গত প্রায় পাঁচ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমরা তিল তিল করে বিলুপ্তপ্রায় খেলাটির পুনর্জন্ম ঘটিয়ে গৌরব আর সম্মানের যাত্রা শুরু করেছি। একটি স্থায়ী কমপ্লেক্স পেলে স্কোয়াশ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মেডেল অর্জনসহ দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে ইনশাআল্লাহ।’
এবারের আসরে বাংলাদেশের হয়ে লড়ছেন সাহাদৎ ও রনি দেবনাথ এবং জুনিয়র দলের আমিনুল ও সাইমুন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান স্কোয়াশ ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আদেল আল-গালিব। এছাড়া ফেডারেশনের নির্বাহী পর্ষদের সদস্য, দুই বিদেশি কোচ পাকিস্তানের আব্দুল বাসেত ও ইরানের মহসিন জাভেদ এবং খেলোয়াড়দের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই আন্তর্জাতিক আসর। সেদিন বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। অপ্রচলিত খেলা হলেও স্কোয়াশের কোর্টে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের এই লড়াই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


