সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ইউএনও অফিসে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন সোহেল মোল্লা নামে এক ইজারাদার। রোববার দুপুর ৩টার দিকে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) অফিসে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত সোহেল মোল্লাকে সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে বেলকুচি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সোহেল দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও এনায়েতপুর থানা বিএনপির সাবেক সদস্য।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অস্থায়ী পশুর হাটের উন্মুক্ত ডাক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। বিকাল ৩টার দিকে হাট ডাকে অংশ নিতে ইউএনও কার্যালয়ে প্রবেশ করেন সোহেল মোল্লা। তিনি হলরুমে অবস্থান করা অবস্থায় বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বনী আমিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম আজম ও বেলকুচি পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হাজীর উপস্থিতিতে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা সোহেল মোল্লাকে তৃতীয় তলার হলরুম থেকে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিতে দিতে নিচে নামিয়ে আনেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আহত সোহেল মোল্লা বলেন, ‘ইজারায় অংশ না নেওয়ার জন্য বেলকুচি বিএনপির নেতারা আগে থেকে হুমকি দিয়ে আসছিল। দুপুরে আমি বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের হলরুমে অবস্থান করা অবস্থায় বেলকুচি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রহিস ব্যাপারি, দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাকিম ও এনায়েতপুর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী হামলা চালায়। আমাকে তৃতীয় তলা থেকে তুলে নিয়ে মারতে মারতে নিচ তলায় নামিয়ে নিয়ে আসে।’
বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। যারা হামলা করেছে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। হামলায় আহত সোহেল মোল্লা অভিযোগ দাখিল করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইউএনও আফরিন জাহান বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মিটিংয়ে আছি। হামলার ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’


