তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের পর সিটি ইউনিভার্সিটির সব একাডেমিক কার্যক্রম আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সোমবার রাতের মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রোববার রাত ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা দফায় দফায় সংঘর্ষে সাভারের বিরুলিয়া এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। আগুনে পুড়ে গেছে অন্তত ১০টি গাড়ি ও একাধিক স্থাপনা, আহত হয়েছেন দুই পক্ষের অন্তত শতাধিক শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’ নামের হোস্টেলের সামনে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে থুথু নিক্ষেপ করলে তর্কাতর্কির সূত্রপাত হয়। রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে হামলা চালায়, ভাঙচুর করা হয় কয়েকটি কক্ষ।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তারা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হতে চাইলে প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ শান্ত থাকার অনুরোধ জানায়।

পরে রাত ১২টার পর ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটির ভেতরে ঢুকে প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়, লুট হয় কম্পিউটারসহ মালামাল, পুড়িয়ে দেওয়া হয় তিনটি বাস ও একটি প্রাইভেটকার, আরও পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
সংঘর্ষ চলাকালে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। ভোররাত পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন, তাদের মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সাভার ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সহায়তা পাননি শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষের পর সোমবার আশপাশের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়।
সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত, তবে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।


