রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত দেশের জনপ্রিয় মাল্টিপ্লেক্স ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’ প্রায় ২০ বছর ধরে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক সাম্প্রতিক অভিযানে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অভিযানটি পরিচালিত হয়। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি কেবল একটি এনওসি (অনাপত্তি পত্র) নিয়েই তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছিল।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বলেন, ‘আজকের (মঙ্গলবার) অভিযানটা সবাই দেখেছেন। উনারা একটি প্রেক্ষাগৃহ পরিচালনা করছেন, কিন্তু কোনো প্রেক্ষাগৃহ চালাতে হলে জেলা প্রশাসন বা ডেপুটি কমিশনারের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘উনাদের একটি এনওসি আছে, সেটিও ২০০৪ সালের। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো লাইসেন্স নেননি। একভাবে বলতে গেলে, উনারা লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনা করছেন। আর উনাদের মাদার কোম্পানি হচ্ছে শোমোশন লিমিটেড। কিন্তু স্টার সিনেপ্লেক্স পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও সেই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ নেই।’
লাইসেন্স সংক্রান্ত জটিলতার পাশাপাশি গ্রাহকদের টিকিট কেনা নিয়েও ভোগান্তির বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট কাটতে গিয়ে অনেকের টাকা কেটে নেওয়া হলেও টিকিট ইস্যু হচ্ছে না।
এ বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বলেন,
‘আরেকটা সমস্যা হচ্ছে, অনেক মানুষ টিকিট কাটছেন, কিন্তু এসে টিকিট প্রিন্ট করতে পারছেন না। অথচ তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা উনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। উনারা জানিয়েছেন, সাত কর্মদিবসের মধ্যে টাকা রিফান্ড করা হবে।’
সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কারিগরি বা সফটওয়্যারজনিত সমস্যা। এ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, ‘এটা তাদের সফটওয়্যারের একটি সমস্যা। আমরা অনেক জায়গাতেই দেখি, অনলাইনে কিছু কিনতে গেলে টাকা কেটে নেয়, কিন্তু পেমেন্ট সম্পন্ন হয় না—এ ধরনের ঘটনা ঘটে। উনারা আশ্বস্ত করেছেন, সাত কর্মদিবসের মধ্যে যারা এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তারা টাকা ফেরত পাবেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কারণ অনেকেই দূর থেকে এসে সিনেমা দেখতে পারেননি।’
আদালত জানান, ‘এ বিষয়ে আমরা উনাদের সতর্ক করেছি, যেন দ্রুত সফটওয়্যার সমস্যার সমাধান করা হয়। আজকে আমরা কোনো আর্থিক জরিমানা করিনি। অভিযানে এসে আমরা উনাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা এবং সম্ভাব্য কর ফাঁকির অভিযোগে স্টার সিনেপ্লেক্সের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও বড় অঙ্কের জরিমানার ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


