হলিউডের বড় প্রযোজনা সংস্থাগুলোর একাধিক ছবির ফ্যাঞ্চাইজি রয়েছে। ছবিগুলোর সিক্যুয়েল, প্রিক্যুয়েল প্রতিনিয়ত দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছে। বলিউডে কিছুটা এর প্রচলন দেখা গেলেও আমাদের দেশে এ ধারা ওইভাবে গড়ে উঠেনি।
ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সিক্যুয়েলের ঘোষণা দিয়েছিল ‘ঢাকা অ্যাটাক’। যদিও ছবিটির সিক্যুয়েল নির্মিত হয়নি। একই প্রযোজনা সংস্থা থেকে পরবর্তীতে নির্মিত হয় ‘মিশন এক্সট্রিম’ ও ‘মিশন এক্সট্রিম ২’। এরপর অনেক সিক্যুয়েলের ঘোষণা এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে রায়হান রাফীর ‘তুফান ২’, ‘তান্ডব’-এর আরও দুটি পর্ব, সঞ্জয় সমদ্দারের ‘ইনসাফ ২’। ছবিগুলো কি ঘোষণাতেই থমকে রইবে, নাকি আলোর মুখ দেখবে?
গেল বছরের ১৭ জুন মুক্তি পেয়েছিলো রায়হান রাফী পরিচালিত ‘তুফান’। তখনই ঘোষণা করা হয়েছিল এর সিক্যুয়েল। কথা ছিলো গেল বছরই এর কাজ শুরু করবেন। তখন রাফী বলেছিলেন, প্রথম পর্বের সকল কাস্টিং অর্থাৎ শাকিব খান, মিমি চক্রবর্তী ও চঞ্চল চৌধুরী থাকবেন দ্বিতীয় পর্বে। এমনকি কলকাতার প্রথম সারির আরও অভিনয়শিল্পী ছবিতে যুক্ত হওয়ার কথা ছিলো।
এ বছরের ঈদুল আযহায় মুক্তি পেয়েছিলো রাফীর ‘তাণ্ডব’। ছবিটির শেষে পর্দায় ভেসে উঠেছিল ‘তাণ্ডব টু লোডিং’। হলিউড-বলিউডে যেমন নির্দিষ্ট ঘরানার সিনেমা নিয়ে ‘ইউনিভার্স’ তৈরি হয়, ‘তাণ্ডব’ নিয়েও তেমনই কিছু করার পরিকল্পনার কথা জানান পরিচালক। এক্ষেত্রে তার ‘তুফান’ সিনেমার সঙ্গেও কোনো যোগসাজেশ থাকতে পারে বলেও জানানো হয়।
সিয়াম আহমেদকে নিয়ে রাফী এ মুহূর্তে শুটিং করছেন হরর-থ্রিলার ‘আন্ধার’-এর। সে ছবির শুটিং সেট থেকে তিনি কথা বলেন টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুটি ছবিরই আমরা সিক্যুয়েল করবো। যেহেতু সিক্যুয়েল চ্যালেঞ্জিং— আগের পর্বের সফলতাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার, সে কারণে একটু সময় লাগিয়ে চিত্রনাট্যের কাজ করছি। খুব শিগগিরই আমরা ঘোষণা দিবো তুফান নাকি তাণ্ডবের সিক্যুয়েল আগে শুটিংয়ে যাবো।’
অন্যদিকে ‘ইনসাফ’-এর শেষেও এর সিক্যুয়েলের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। শরিফুল রাজ ও ফারিণের পাশাপাশি এ ছবির অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ধরা দিয়েছেন মোশাররফ করিম ও চঞ্চল চৌধুরী। পর্দায় তাদের উপস্থিতি কম হলেও নির্মাতা আশ্বস্ত করেছেন, ইনসাফের দ্বিতীয় পর্বে তাদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগের চেয়ে বড় পরিসরে সিক্যুয়েলটি নির্মাণ করতে চাচ্ছি। বর্তমানে চিত্রনাট্য লেখা হচ্ছে। গল্পের পরিসর বাড়ানো হচ্ছে। আগের যারা ছিলেন তাদের সবাই এতে যুক্ত থাকবেন। সঙ্গে আরও অনেককে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছি আমরা। সবকিছু গুছিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিবো।’
এছাড়া বাজারে গুঞ্জন রয়েছে ‘বরবাদ’ ও ‘চক্কর ৩০২’-এর সিক্যুয়েল আসার। তবে ‘বরবাদ’-এর প্রযোজনা সংস্থা থেকে বলা হয়েছে, ছবির মূল তিন চরিত্র শাকিব খান, ইধিকা পাল ও মিশা সওদাগর গল্পে মারা গিয়েছেন। তাই সিক্যুয়েল করা সম্ভব নয়।
সিক্যুয়েল না হলে তো চাইলে প্রিক্যুয়েল করা যায়, সেরকম পরিকল্পনাও আপাতত নেই বলে জানিয়েছে ‘বরবাদ’ প্রযোজনা সংস্থা।
‘চক্কর ৩০২’-এর সিক্যুয়েলের ব্যাপারে পরিচালক শরাফ আহমেদ জীবন সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, শুরুতে তাদের ওইরকম পরিকল্পনা না থাকলেও সিক্যুয়েল আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে কবে নাগাদ আসবে তা বলতে পারেননি তিনি।


