ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে দেখছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।
হাদির ওপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণের পর এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ডাকসু ভিপি একথা বলেন।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই প্রার্থীকে গুলির ঘটনায় লিখিত প্রতিক্রিয়ায় সাদিক বলেন, খুবই অশনিসংকেত। পতিত ফ্যাসিস্টরা নির্বাচন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে নানান কর্মসূচি ও হুমকি দিয়েছে। ফ্যাসিস্টদের দেশি-বিদেশী দোসররাও আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে দিতে চায় না। এমন অবস্থায় প্রার্থীর ওপর হামলায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া এবং প্রার্থীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অতিসত্ত্বর হামলাকারীকে চিহ্নিত করতে হবে এবং ঘটনার পেছনের রাজনৈতিক মোটিভ উদঘাটন করে জাতিকে জানাতে হবে।
পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারের জন্য যেসব প্রার্থী মাঠে থাকবেন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বের হওয়ার পর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান হাদি। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ নামে একটি সংগঠনের মুখপাত্র। তার পুরো নাম শরিফ ওসমান হাদি হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ওসমান হাদি নামে পরিচিত।
এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে ডাকসু নেতারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার কার্যকর করার দাবি জানান।
ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও ন্যাক্কারজনক হামলার নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা এ ধরনের ষড়যন্ত্রে যুক্ত, তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে না পারলে এই ইন্টেরিম সরকার জনতার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রমাণিত হবে।’
ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িতদের কত দ্রুত আপনারা (প্রশাসন) গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পারেন-তার মধ্য দিয়েই প্রমাণ হবে আপনি জুলাইয়ের পক্ষে আছেন, নাকি এখনো বিগত ফ্যাসিবাদের সাফাই গেয়ে যাচ্ছেন।’


