ঢাকার লালবাগ থানার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইনের আদালত এই আদেশ দেন। এদিন আদালতে আসামি পক্ষের আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন। অপরপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ওমর ফারুক ফারুকী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।
শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী টাইমসকে বলেন, ‘আমরা এই মামলায় আসামি জামিনের বিরোধিতা করি। কিন্তু আদালত আসামি পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে ও তার স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করেছেন।’
আসামি পক্ষের ব্যারিস্টার নাজিয়া কবির বলেন, ‘সাবেক স্পিকার একজন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি এবং তিনি অসুস্থ। আমরা আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করি। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তার জামিন মঞ্জুর করেছেন।’
গত ৭ এপ্রিল ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। এরপর থেকে তাকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ এবং প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এরপর পদত্যাগের আগ পর্যন্ত টানা তিনবার তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেছেন।
তার বিরুদ্ধে লালবাগ থানায় করা হত্যাচেষ্টার মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল।
লালবাগ ছাড়াও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সহিংসতার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে রংপুরেও মামলা রয়েছে। রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন নিহতের স্ত্রী।


