থাইল্যান্ডে ইনডোর স্টেডিয়ামে যখন সাফ ফুটসালের রোমাঞ্চ চলছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ শিবিরে নেমে এল শৃঙ্খলার খড়গ। দলের ঐক্য আর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো প্রকার আপস না করার কঠোর বার্তা দিল বাফুফে। একাধিকবার টিম কোড অব কন্ডাক্ট বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় ফুটসাল দলের সহ-অধিনায়ক ইনতিশার মোস্তফা চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। চলমান টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে তিনি আর লাল-সবুজের জার্সি গায়ে চড়াতে পারবেন না।
টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে ইনতিশার দলের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে তিনি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল নিজের ফেসবুক পেজে ওই লাল কার্ডের ভিডিও শেয়ার করে কিছু অভিযোগ তোলেন এই ফুটবলার। মূলত এরপরই নড়েচড়ে বসে বাফুফে কর্তৃপক্ষ। ১৭ জানুয়ারি প্রেরিত চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়, ইনতিশারের আচরণ দলের পেশাদার কাঠামোকে দুর্বল করেছে এবং ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নষ্ট করেছে।
বাফুফের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, সহ-অধিনায়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও ইনতিশারের কিছু কর্মকাণ্ড দলের ঐক্য ও মনোবল ভেঙে দিয়েছে। নেতৃত্ব কাঠামোকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় টুর্নামেন্টের মাঝপথেই তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় ফেডারেশন। বাফুফে মনে করছে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দলের সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য ছিল।
রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, তার আগেই সহ-অধিনায়ককে হারানোর খবরে দলের ভেতরে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজ করছে। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের দাবি, দলের গুমোট পরিবেশ কাটাতে এবং দীর্ঘমেয়াদী পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে এই ‘সার্জারি’ প্রয়োজন ছিল। এখন দেখার বিষয়, মাঠের প্রধান একজন সেনাপতিকে হারিয়ে ব্যাংককের কোর্টে বাংলাদেশের বাকি লড়াইটা কতটা চ্যালেঞ্জিং হয়।


