তাইজুল ইসলামের স্পিন জাদুতে দ্বিতীয় ইনিংসে নামার আগেই বাংলাদেশের ২১১ রানের লিড। আয়ারল্যান্ডকে ২৬৫ রানে গুটিয়ে দেয়াতে সুযোগ এসেছিল তাদের ফলো অন করানোর। তবে সেই পথে হাঁটেননি নাজমুল হোসেন শান্তরা। বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবিধাটাই নিলেন তারা। মাহমুদুল হাসান জয়-সাদমান ইসলামের জোড়া ফিফটিতে ১ উইকেটে ১৫৬ রান তুলে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে ৩৬৭ রানের বড় লিড নিয়ে।।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনারই খেলেছেন রীতিমতো ওয়ানডে স্টাইলে। সিরিজে দ্বিতীয়বার গড়লেন শতরানের জুটি। এর আগে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে (২২৪) ও ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে (৩১২) পরপর দুই ম্যাচে শতরানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস।
১১৯ রানের জুটির পথে ফিফটি ছুঁয়েছেন সাদমান-জয় দুজনই। অবশ্য ৬ চারে ৯১ বলে ৬০ রান জয়কে ফিরতে হয়েছে লেগ স্পিনার গাভিন হোয়ের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ফ্রন্টফুটে খেলতে এসে বলের টার্নে লাইন মিস করে বসেন পঞ্চম ফিফটির দেখা পাওয়া এই ওপেনার। জয় ফিরলেও দিনের খেলা শেষ করে মাঠ ছেড়েছেন সাদমান ইসলাম। অষ্টম ফিফটিকে টেনে নিয়ে গেছেন ৬৯* রানে। তিনে নামা মুমিনুল হকও দিনের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে খেলেছেন হাত খুলে।
দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশি স্পিনারদের দারুণ বোলিংয়ে ৯৪ রানেই প্রথম পাঁচ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। ৩৭৮ রানে এগিয়ে থেকে দিনের খেলা শেষ করে বাংলাদেশ। বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা আয়ারল্যান্ড সকাল থেকেই বেশ দাপুটে ব্যাটিং করেছে। শুরুর সেই ধস সামাল দিয়েছেন লরকান টাকার আর স্টিফ্যান ডোহেনির ৮১ রানের জুটিতে। ১৫০ বল স্থায়ী এই জুটিতে টাকারের অবদান ৩৫, ডোহেনির ৪৬।
জমে ওঠা এই জুটি ভাঙার আগে অবশ্য রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠে পুরো দেশ। মিরপুর স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে শুরু হয় সাংবাদিকদের আতঙ্কিত ছুটাছুটি। আইরিশ ক্রিকেটাররাও বেরিয়ে এসেছিলেম ড্রেসিংরুম থেকে। ভূমিকম্পের প্রভাবে মিনিট তিনেক বন্ধও থাকে খেলা।
সেই বিরতির দুই ওভার পর বোলিংয়ে এসে তিন ডেলিভারির ব্যবধানে জোড়া আঘাত হানেন তাইজুল। দারুণ এক আর্ম ডেলিভারিতে ডোহেনিকে বোল্ড করে বড় হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এক বল পর নতুন ব্যাটার অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইনকেও দুর্দান্ত এক টার্নিং বলে বোল্ড করেছেন তাইজুল। তার জোড়া আঘাতের পরেও আরো একটা বড় জুটি হয়েছে আয়ারল্যান্ডের। অষ্টম উইকেটে জর্ডান নিলের সাথে ৭৪ রানের জুটি গড়ে দলকে কমাতে থাকেন ফলো অনে পড়ার সম্ভাবনা। সেই জুটিটা অবশ্য ভেঙেছে এবাদত হোসেনের বলে। ৮৩ বল খেলা নিল তার বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কভারে মুমিনুল হকের হাতে কভারে ক্যাচ দিয়ে।
আইরিশদের শেষের দৃঢ়তার ইনিংসে অবশ্য সাকিব আল হাসানকে ছুঁয়েছেন তাইজুল। আয়ারল্যান্ডের শেষ উইকেটটা নিয়ে হয়েছে বাংলাদেশের যুগ্ম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। দুজনেরই উইকেট সংখ্যা এখন ২৪৬। তবে সাকিবের চেয়ে ২০ ইনিংস কম বল করতে হয়েছে তাকে। একে একে ব্যাটাররা আসা যাওয়ার মধ্যে থাকলেও টাকার দাঁড়িয়ে ছিলেন এক প্রান্ত আগলে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭৫ রানে।


