সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক কলহের জেরে বৃদ্ধা মায়ের মুখে আঘাত করে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় মনিরুল ইসলাম নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
শনিবার বৃদ্ধা আনোয়ারো বেগম (৭২) বাদী হয়ে তার বড় ছেলে মনিরুল ও পুত্রবধূ ফেরদৌসী ইসলাম ঝর্ণার (৪৫) বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তার মনিরুল উপজেলার কলবাড়ি গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে এবং বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মনিরুল ও তার স্ত্রী ঝর্ণা দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারার ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করেন না। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে আনোয়ারার সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে নেওয়া এবং তাকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলেন তারা।
গত শুক্রবার দুপুরে মনিরুল ও ঝর্ণা লাঠিসোঁটা নিয়ে আনোয়ারার বসতঘরে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করেন। প্রতিবাদ করলে মনিরুল কাঠের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। আনোয়ারো মাথা সরিয়ে নিলে আঘাত মুখে লেগে সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং ঠোঁট ফেটে রক্তাক্ত জখম হন। পরে ঝর্ণা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে তা নাকে লেগে জখম হয়।
এ সময় আনোয়ারোকে রক্ষা করতে তার মেয়ে নাছিমা খাতুন এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানান, মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনিরুলকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


