ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে রোববার সন্ধ্যায় হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিজিবি তদেরকে সাতক্ষীরা সদর থানায় সোপর্দ করে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, হস্তান্তর হওয়া বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয় যাচাই বাছাই শেষে সোমবার তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
বিজিবি জানায়, ওই ১৫ বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজন নারী, পাঁচজন পুরুষ ও পাঁচজন শিশু রয়েছে। তারা হলেন, সাতক্ষীরার শ্যামনগরের নকীপুর গ্রামের প্রশান্ত রায় এর স্ত্রী অনিমা মন্ডল (২৯), তাদের মেয়ে সুপর্ণা রায় (৬), খুলনা জেলার কয়রার জোড়শিং গ্রামের নূর ইসলাম গাজীর ছেলে নূরনবী গাজী (৪০), তার স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন (৩৫), তাদের ছেলে আলম গাজী (১২), মেয়ে হালিমা পারভিন (৯), একই গ্রামের আরশাদ ঢালীর ছেলে মেহের আলী ঢালী (৬০), তার স্ত্রী তহমিনা খাতুন (৫৫), তাদের মেয়ে রিনা পারভিন (২০), একই উপজেলার পাটাখালির (জোড়সিং) ফজর আলী মিঞার ছেলে আনিছুর রহমান (৩৬), তার স্ত্রী মায়মুনা খাতুন (৩০), তদের ছেলে মুস্তাকিম মালী (১০), যশোর জেলার অভয়নগরের ধোপাদী গ্রামের সুফল মলের ছেলে দীপু মন্ডল (২০) ও শরিয়তপুর জেলা সদরের আজিজুল ইসলামের মেয়ে আমেনা আক্তার (২০)।
রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আমুদিয়া ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার বিকাশ কুমার ও সাতক্ষীরার তলুইগাছা সীমান্তের বিওপি কমান্ডার আবুল কাশেম পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশিকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত দেওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নূরনবী গাজী জানান, তারা তিন বছর ধরে ভারতের একটি শহরে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। বর্তমানে ভারত সরকার বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে মাইকিং করায় শনিবার রাতে তারা আমুদিয়া বিএসএফ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন।
এর আগে ১৫ ও ১৮ সেপ্টেম্বর একই সীমান্ত দিয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২৩ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠায় বিএসএফ।


