২০২৬ সালের ৫ মার্চ জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে নেপাল। পাঁচদিনের রক্তক্ষয়ী ‘জেন জি’ বিক্ষোভের পর আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি (৭৩)।
সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে বলা হয়, শুক্রবার রাতে তিনি শপথ নেওয়ার পরপরই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি রাম চন্দ্র পাওডেল।

রাষ্ট্রপতির প্রেস উপদেষ্টা কিরণ পোখারেল জানান, অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের মার্চে নতুন সরকারের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট পাওডেলের কাছ থেকে শপথ পড়ার সময় সুশীলা কার্কি বলেন, ‘দেশ ও জনগণের নামে শপথ নিচ্ছি, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার দায়িত্ব পালন করব।’ এসময় তাকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি পাওডেল তার সাফল্য কামনা করেন।
নেপালের প্রেসিডেন্ট ভবনের ছোট ওই আয়োজনে গুটি কয়েক বিদেশি কূটনীতিক ও কয়েকজন সাবেক নেতা উপস্থিত ছিলেন। নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কিকে তারা স্বাগত জানান। আগামী ছয় মাস তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দেবেন এবং নেপালে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবেন।
গত সপ্তাহে দুর্নীতি ও ২৬টি সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলনে নামে নেপালের তরুণ ছাত্র-জনতা। সে আন্দোলন দমন করতে গিয়ে গোটা দেশে ব্যাপক সহিংসতায় প্রাণ হারান অন্তত ৫১ জন। ২০০৮ সালে গৃহযুদ্ধ শেষে রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর নেপালে আর এতো ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী কারফিউ জারি করে রাস্তায় নামে। বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও তার মন্ত্রীরা। তবুও বিক্ষোভ না থামিয়ে সরকারি স্থাপনা, সংসদ ভবন এবং দেশের প্রভাবশালী নেতাদের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তার ভার নেয় সেনাবাহিনী।
দেশের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম প্রস্তাব করেন সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্র-জনতা। রাষ্ট্রপতি পাওডেল ও সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যস্থতায় দুই দিনের আলোচনার পর সুশীলা কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


