রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি আবারও বড় আকার ধারণ করেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১৯ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার।
বুধবার প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, এক বছর আগের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার বা ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ২৮ বিলিয়ন ডলার। এ সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ঋণাত্মক ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৩৩ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, একই সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে আমদানি হয়েছিল ৪৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক থাকলেও রপ্তানি আয় কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতির চাপ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক এজাজুল ইসলাম বলেন, ‘রপ্তানি তখনো প্রায় সাড়ে ৪ শতাংশ নেগেটিভ গ্রোথে ছিল। অন্যদিকে, আমদানিতে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ পজিটিভ প্রবৃদ্ধি। ফলে ঘাটতি তো বাড়বেই।’
তবে তিনি মনে করেন, রেমিট্যান্স প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় এবং বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ থাকায় দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি এখনো চাপের মধ্যে পড়েনি।
তিনি বলেন, ‘এপ্রিল মাসে রপ্তানি আয় কিছুটা বেড়েছে। সামনের দিকে বাণিজ্য ঘাটতির সূচকে কিছুটা উন্নতি দেখা যেতে পারে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার।
এদিকে, চলতি হিসাবের ঘাটতি কমলেও আর্থিক হিসাবের উদ্বৃত্ত কিছুটা কমেছে। মার্চ শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারে। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এক বছর আগে একই সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি ছিল ৮৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
অন্যদিকে, আর্থিক হিসাবে মার্চ শেষে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৪ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আর্থিক হিসাবের উদ্বৃত্ত ছিল মাত্র ৫৭ কোটি ডলার।
সার্বিক বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য বা ওভারঅল ব্যালেন্সে অবশ্য উদ্বৃত্ত বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়ে ওভারঅল ব্যালেন্স উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলারে। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার।
এক বছর আগে একই সময়ে ওভারঅল ব্যালেন্স ছিল ঋণাত্মক ১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, পরিবহন, ভ্রমণ, বিদেশি ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধসহ বিভিন্ন সেবা খাতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেবা হিসাবের ঘাটতিও আরও বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সেবা খাতের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলারে। ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৩ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার। আর আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার।
এক মাসের ব্যবধানে এ খাতে ব্যয় বেড়েছে ৪৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।


