আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকরা বছরে একবার ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা পাবেন। এজন্য নতুন অর্থবছরের বাজেটে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। কৃষি খাতে মৌলিক রূপান্তর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ১০ ধরনের সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে চলতি বছরের পহেলা বৈশাখে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী অর্থবছরে প্রথম ধাপে ১০০টি উপজেলায় এই কার্ড দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ বাবদ চলতি অর্থবছরে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কৃষির সার্বিক উন্নয়নে সরকারের চলমান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সহায়তা দেওয়া, ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচি জোরদার করা।
একই সঙ্গে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ, পচনশীল পণ্যের জন্য কোল্ড স্টোরেজ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং বরেন্দ্র অঞ্চলে আম চাষিদের জন্য বিশেষ হিমাগার স্থাপন করা হচ্ছে।
এ ছাড়া, কৃষি উপকরণ বিতরণ, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে কৃষক ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও অর্থমন্ত্রী জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং এর আওতায় কৃষি মন্ত্রণালয়ও ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


