জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। একই সঙ্গে অবিলম্বে এসব নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ড ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফ এ দাবি জানান। গণমাধ্যমে বিবৃতিটি পাঠান বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক অনুপম রায় রূপক।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ‘জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে একাত্তরের ঘাতক-দালাল ও চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করা মুক্তিযুদ্ধের লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের সঙ্গে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা। বাংলাদেশের মানুষ এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেবে না।’
তারা বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রশ্নটি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন ও বিতর্ক থাকলেও ১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যায় না। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় ইতিহাসে স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।’
নেতারা আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ছিল একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলন। সেই আন্দোলনের পর গঠিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের প্রতি এমন নমনীয়তা দেখানো জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের সঙ্গেও বেইমানির শামিল।’
তারা বলেন, ‘প্রকৃত জাতীয় পুনর্গঠন তখনই সম্ভব, যখন ১৯৭১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সংঘটিত সব গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় রেখে প্রকৃত জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।’
বিবৃতিতে জাতীয় সংসদের শোক প্রস্তাবে উল্লেখিত যুদ্ধাপরাধীদের নাম অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডসহ সব অপরাধের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।


