প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ম্যাচে পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল কানাডা। টরন্টোয় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বসনিয়া হার্জেগোবিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের সমতায় মাঠ ছেড়েছে জেসি মার্শের দল। পুরো ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় জয় হাতছাড়া হয়েছে কানাডার।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক কৌশলের মিশেলে লড়াই চালিয়ে যায়। ৬৬তম মিনিটে বসনিয়ার ওলুওয়াসেইয়ের একটি শক্তিশালী হেড গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করে কানাডার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান নিকোলা কাটিচ। এর কিছুক্ষণ পরেই আলি আহমেদের বাড়ানো বলে প্রমিজ ডেভিড গোল করার একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন।
ম্যাচের ৬৮ মিনিট পার হওয়ার পর যখন মনে হচ্ছিল কানাডা হয়তো কাঙ্ক্ষিত গোলটি পাচ্ছে না, ঠিক তখনই ৭৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। প্রমিজ ডেভিডের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় বল নিয়ে পেনাল্টি বক্সে ঢুকে পড়েন বদলি খেলোয়াড় লারিন। তার দ্রুত নেওয়া শট প্রতিপক্ষের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে বসনিয়ার গোলরক্ষক ভাসিলজকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়।
ম্যাচের শেষ দিকে ইনজুরির কারণে বসনিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার কোলাসিনাচকে হারালে দলটি কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে এবং কোনোমতে ড্র নিশ্চিত করার চেষ্টা চালায়। নির্ধারিত সময় শেষে ছয় মিনিট ইনজুরি টাইম যোগ করা হলেও কোনো দলই আর গোলের দেখা পায়নি।
ম্যাচজুড়ে কানাডার রক্ষণভাগ ছিল বেশ গোছানো, আর আক্রমণভাগে তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্পষ্ট। তবে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। অন্যদিকে, বসনিয়া মূলত তাদের সুসংগঠিত রক্ষণভাগ এবং ফিজিক্যাল ফুটবলের ওপর ভিত্তি করে টরন্টো থেকে একটি মূল্যবান পয়েন্ট নিয়ে ফিরতে সক্ষম হয়েছে।
এই ড্র কানাডার জন্য বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের মাটিতে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দ বয়ে আনলেও, জয়ের সুযোগ হাতছাড়ার আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে কোচ মার্শের দলকে।


