ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও অপরাধীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। হত্যায় জড়িত কাউকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি প্রশাসন। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিআইডির (অপরাধ তদন্ত বিভাগ ) ওপর তদন্তের ভার দিয়ে বিচার শুরুর আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
বিচারহীনতার এই ক্ষোভ থেকে বুধবার সাজিদ হত্যার ৯০তম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রতীকী প্রতিবাদ করেন শিক্ষার্থীরা। তারা একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে লেখেন, ‘সাবধান! সাজিদ হত্যার আজ ৯০তম দিন! এরপর কি আমি?’
প্রতিবাদরত শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিচারের আশ্বাসের বাণী শুনতে শুনতে তারা ক্লান্ত। তাই সাজিদ হত্যার ৯০তম দিনে আর প্রশাসনের কাছে না গিয়ে এই অভিনব প্রতিবাদ করছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, ‘কেন ৯০ দিন পার হলেও হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি? বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা করে পুকুরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ঠিক কতোখানি নিরাপদ?’
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আজ আমাদের ছোট ভাই সাজিদ হত্যার ৯০তম দিন। কিন্তু খুব কষ্ট চাপা দিয়ে বলতে হচ্ছে, আমরা আমাদের ছোট ভাইয়ের খুনিদের সঙ্গেই হয়তো ক্যাম্পাসে চলাফেরা করছি। খুনিদের বিচার বিলম্বিত হচ্ছে অথচ প্রসাশন নিশ্চুপ।’
‘প্রশাসন আর কতদিন দেরী করবে? প্রশাসন কি সাজিদ হত্যার ১০০তম দিন উদযাপনের অপেক্ষায় আছে?’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাজিদ হত্যার বিচার দাবিতে একাত্মতা পোষণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরাও। বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে একজোট থাকারও আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ ভেসে ওঠে। প্রথমে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ধারণা করা হলেও ফরেনসিক রিপোর্টে জানা যায়, সাজিদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সাজিদের মৃত্যুর দুই মাস পর আনুষ্ঠানিক ভাবে এই হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।


