অবশেষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঘনিষ্ঠ মিত্র তার অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে বেশ আনন্দিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে নরেন্দ্র মোদীকে পাশে পেয়েছি। তিনি একজন মহান মানুষ।’
বিবিসির খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় বুধবার হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, নরেন্দ্র মোদীর কাছে থেকে তিনি ‘নিশ্চিত আশ্বাস’ পেয়েছেন- ভারত ‘স্বল্প সময়ের মধ্যেই’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে ভারতের এগিয়ে আসাকে ‘বড় সিদ্ধান্ত’ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
অবশ্য ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কেবল ভারতই নয়, রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে চীনকেও সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন মস্কোর যুদ্ধ তহবিল বন্ধ করতে ক্ষেত্রে বেইজিংসহ অন্য বাণিজ্য অংশীদারদের প্রতিও কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে চলেছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত তাৎক্ষণিকভাবে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে পারবে না। এটি যুক্তিযুক্ত নয়, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে “একটু সময় লাগবে”। তবে আমি আশা করছি মোদী শিগগিরই সেটি সমাধান করবেন।’
‘এখন আমার চীনকে দিয়েও একই কাজ করাতে হবে’, বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেল ও গ্যাস রাশিয়ার সবচেয়ে বড় রপ্তানি পণ্য। রাশিয়া থেকে এসব পণ্যের প্রধান ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে চীন, ভারত এবং তুরস্ক।

গত জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়েই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন ট্রাম্প। তবে তাতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে মনঃপূত সাড়া না মেলায় প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর অনেকটাই ক্ষিপ্ত হন তিনি। জানান, তার শর্ত মেনে না নিলে আন্তর্জাতিকভাবে রাশিয়া কোণঠাসা হয়ে পড়বে।
তবুও পুতিন লড়াই চালিয়ে যাওয়ায়, মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করতে বিশ্বনেতাদের আহ্বান জানান ট্রাম্প। একই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় মিত্র দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীকেও। তবে বিজেপি প্রধান সাফ জানিয়ে দেন, তার দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করবে না। এতে ওয়াশিংটন-নয়া দিল্লি কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাণিজ্য যুদ্ধে রূপ নেয়।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক (জরিমানা শুল্ক) আরোপের ঘোষণা দেন। রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনার জন্যই আগস্ট মাসে দিল্লির ওপর ওই ‘শাস্তি’ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এরপরও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোদী। জানিয়েছিলেন, ভারতীয়দের স্বার্থে আঘাত আসে এমন কোনো সিদ্ধান্তই তিনি নেবেন না। তার জন্য ট্রাম্পের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ককেও তিনি পরোয়া করেন না।
কয়েক মাস এ সিদ্ধান্তে অটল থাকলেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধে প্রথমবারের মতো ট্রাম্পের আহবানে ইতিবাচক সাড়া দিলেন মোদী। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে বলেন, ‘তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা শিগগিরই “বাণিজ্য আলোচনায় সমঝোতায়” পৌঁছাবেন।’


