সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে থানা, ডিবি ও র্যাব মিলিয়ে ১২ বছর ৮ মাস ২১ দিন ধরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে, মামলাটির তদন্তে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেয় হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি এএফএম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ আদেশ দেয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং বাদীপক্ষে আইনজীবী শিশির মনির শুনানি করেন। রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, মামলাটিতে প্রথমে থানা চার দিন, এরপর ডিবি দুই মাস দুই দিন তদন্ত করে। পরে র্যাব দীর্ঘ সময় তদন্ত করে, যেখানে বিভিন্ন সময়ে অগ্রগতি প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে।
তদন্তকালে আটজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে সাতজন কারাগারে এবং একজন জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তদন্ত এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি এবং আগের তদন্ত সংস্থাগুলোর তথ্য হস্তান্তরে ঘাটতি থাকায় নতুন টাস্কফোর্স কাজ করতে সমস্যায় পড়ছে। এ কারণে আরও সময় চাওয়া হয়েছে এবং আদালত ছয় মাস সময় দিয়েছে।
গত বছরের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে টাস্কফোর্সকে ছয় মাস সময় দেয় হাইকোর্ট। সেদিন আদালত বলেছিল, শেষবারের মতো সময় দেওয়া হলো। এই সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেই হবে।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কার্যক্রম থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। পরে আলোচিত মামলার তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়।
টাস্কফোর্সের অন্য তিন সদস্য হলেন পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন করে দুজন এবং র্যাব থেকে পরিচালক পদমর্যাদার একজন।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার এবং মেহেরুন রুনি হত্যার শিকার হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওই বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে মামলার তদন্ত করেন শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা। একই বছর ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তভার পড়ে ডিবি উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলমের ওপর।
দুই মাস পর হাইকোর্টের আদেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাবকে।
এ মামলার বাদী পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আইনজীবী শিশির মনিরকে নিযুক্ত করা হয়।
২০১২ সালে হত্যাকাণ্ডের পর তদন্ত ও আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। সেই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। ওই বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।


