সাইবার যুদ্ধে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিজয়ী হতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেছেন, সাইবার যুদ্ধে লড়াই করতে না পারলে পরাজিত হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে এটি ভেবে দেখতে হবে।
রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলটির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ১৫ বছর পর দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সেই পথেও অনেক বাধা আসছে। বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চলছে। সাইবারওয়ারে সজাগ থাকতে হবে। একমাত্র বিএনপিই দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ধর্মভীরু মানুষ, কিন্তু ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র বিভাজনে বিশ্বাস করি না। তবে একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে দেশে বিভাজনের পথ সৃষ্টি করতে চায়। ধর্মকে দিয়ে রাষ্ট্র আর সমাজে বিভাজন আমরা বিশ্বাস করি না। সবার আগে বাংলাদেশ—এটা মাথায় গেঁথে নিতে হবে।’
এই গোষ্ঠীর সব অপপ্রয়াসকে পরাজিত করে বিএনপিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ছাত্রদল ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ একটি যুগসন্ধিক্ষণ বা পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আজ বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চলছে। সবচেয়ে বড় যে অপপ্রচার চলছে, তার বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। সাইবার যুদ্ধে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে বিজয়ী হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অভিভাবক খালেদা জিয়া হাসপাতালে। তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তারেক রহমান সার্বক্ষণিক তার খোঁজ রাখছেন। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। আশা করি দেশবাসীর দোয়ায় মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই তাকে সুস্থ করে তুলবেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে, ২৪-এর জুলাই গোটা বাংলাদেশের মানুষের মন-মানসিকতায় এবং তরুণ সমাজের মন-মানসিকতায় অনেক পরিবর্তন এনে দিয়েছে। এখন সবাই পরিবর্তন চায়। পরিবর্তন সর্বক্ষেত্রে চায়। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে চায়, আমাদের চিন্তাভাবনার মধ্যে চায়।’
১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু চাকরি নয়, ব্যবসা, কৃষিকাজ, শ্রম- সব মিলিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। কীভাবে করা হবে তা এরইমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এই পরিকল্পনা প্রমাণ করে বিএনপি একটি অ্যাডভান্স রাজনৈতিক দল।
তিনি আরও বলেন, ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাজনীতির সংস্কার শুরু করেছিলেন; বিএনপিকে আধুনিক করেছিলেন। মানুষের বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার এবং গণমাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করেছেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনা করেন আরেক যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।


