রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিনকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত ট্রেন টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) সুমনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
একই সঙ্গে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে রাতের তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ পুনর্বহালসহ শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে।
এর পর মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রায় আট ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এর আগে, সকালে অভিযুক্ত টিটিইর শাস্তি ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা গেটসংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।
পরিস্থিতি সমাধানে দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম, উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম এবং উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুনুর রশীদও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে অভিযুক্ত টিটিই সুমনকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি রেলওয়ের দায়িত্ব ও গাফিলতি তদন্তে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
এ ছাড়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী প্রক্টর, বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিনিধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম মিয়াকে সদস্য করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে পদ্মা এক্সপ্রেস, তিতুমীর এক্সপ্রেস ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের রাতের স্টপেজ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাতের ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ক্যাম্পাস থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন পর্যন্ত শাটল বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থী ফুরকান উদ্দিনের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রয়োজনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের সমন্বয়ে তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।
এ ছাড়া, গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পর্যালোচনায় আগামী ৬ আগস্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আরেকটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠক শেষে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো প্রশাসন ইতিবাচকভাবে নিয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিক্ষার্থী এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এসব আশ্বাসের পর শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা রেললাইন ছেড়ে দিলে ধাপে ধাপে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রায় আট ঘণ্টা পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস. এম. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতনের ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সক্রিয় ছিল। উপাচার্য ও দুই উপউপাচার্য ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেন। পরে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


